এক হাতে অক্সিজেনের মাস্ক, অন্য হাতে স্যালাইনের বোতল। কোলে চার বছরের সংকটাপন্ন শিশু। পাশে এক স্বজন ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার বহন করছেন। এভাবে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দিকে স্বজনদের ছুটে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, মুমূর্ষু শিশুটিকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার জন্য স্ট্রেচার বা ট্রলি চাওয়া হলে হাসপাতালের কর্মচারীরা টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে না পারায় ট্রলি পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন ও স্যালাইনসহ স্বজনরা জরুরি বিভাগের দিকে ছুটতে থাকেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে শিশুটির মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম রুহুল আমিন (৪)। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে।
ট্রলি না পেয়ে শিশুকে কোলে নিয়ে ছুট স্বজনদের
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা রুহুল আমিনকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে জরুরি বিভাগ থেকে একটি ট্রলির প্রয়োজন ছিল। স্বজনদের দাবি, ট্রলি চাইলে তাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে না পারায় ট্রলি না পেয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে অক্সিজেন ও স্যালাইন নিয়ে জরুরি বিভাগের দিকে দৌড়াতে হয় তাদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মুমূর্ষু শিশুটিকে কোলে নিয়ে ছুটছেন। শিশুটির মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো। তার সঙ্গে থাকা অন্য দুজনের একজন ভারী অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং অপরজন স্যালাইনের বোতল হাতে দৌড়াচ্ছেন। এ সময় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বজন ও উপস্থিত সাধারণ মানুষকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়।
রোগীর স্বজনদের দাবি, সময়মতো ট্রলি না পাওয়ায় এবং টানাটানির মধ্যে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে ট্রলি না পাওয়ার কারণে বিলম্ব এবং এর সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহল।
টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রলি দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডাক্তার মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু। পরিচালক অবসরে যাওয়ায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।
ডাক্তার মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়।
তার ভাষ্য, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ট্রলিতে নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে নার্সরা তাকে ট্রলিতে নিতে বারণ করেছিলেন। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল না বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন:







