দেশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার। সারা দেশে অন্তত আটটি হাব বা অঞ্চল থেকে এজেন্ট ও সুপার এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এসব কার্যক্রম। এসব হাবের মূল নিয়ন্ত্রক বা মাস্টারমাইন্ডরা চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।
কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি এসব দেশের নাগরিকদের সঙ্গে মিলে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছেন। হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, দেশে অনলাইন জুয়া কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর বিস্তার দিনদিন বাড়ছে। তবে পুলিশে স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট হওয়ায় এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে তদারকি ও তদন্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন তারা।
দেশের অনলাইন জুয়ার আটটি হাব হলো মেহেরপুরের মুজিবনগর, নড়াইলের কালিয়া, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কুড়িগ্রামের রৌমারী-ভূরুঙ্গামারী, নরসিংদীর মাধবদী, নাটোরের লালপুর, গাজীপুরের টঙ্গী এবং কক্সবাজার সদর।
এজেন্টদের কাছে সীমাবদ্ধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান
অনলাইন জুয়া নিয়ে কাজ করেন পুলিশের এমন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশে কতটি হাব রয়েছে এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রক কারা, তা নিয়ে পুলিশের কোনো জরিপ বা স্টাডি নেই। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সাধারণত এজেন্ট বা বড়জোর ডিস্ট্রিবিউটর। তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং ব্যবহৃত ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, টেলিগ্রামে ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রাখা যায়। সেখানে চীনা ও রুশ ভাষায় বার্তা আদান-প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের এজেন্টরা গুগল ট্রান্সলেটের মাধ্যমে এসব বার্তার অর্থ বুঝে নেন।
তিনি আরও জানান, এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের গ্রেপ্তার করা হলেও মূল মাস্টারমাইন্ডদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটররাও তাদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেন না।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে, হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন বাড়ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনাও বাড়ছে।
মুজিবনগরে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ
মেহেরপুরের মুজিবনগরকে দেশের অন্যতম বড় অনলাইন জুয়ার হাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মুজিবনগর, গাংনী ও মেহেরপুর সদরে অনলাইন জুয়ার বিস্তারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসা ইসলাম পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সময় অনলাইন জুয়ায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামিনের তদবির ও ছাড়িয়ে নেওয়ার কাজে মোনালিসা যুক্ত ছিলেন। তার আশ্রয়ে থেকে অনলাইন জুয়া ছড়াতে কাজ করেছেন মুজিবনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আমাম হোসেন মিলু, তার ভাতিজা মেহেরপুর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম বাঁধন, মিলুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মইনুদ্দিন ওরফে ময়না এবং স্বপন মাহমুদ।
স্থানীয়দের দাবি, চক্রটি মোনালিসাকে নিয়মিত কমিশন দেওয়ার পাশাপাশি হীরার হারসহ বিভিন্ন উপঢৌকন পাঠাত। জুলাই বিপ্লবের পর আগের পৃষ্ঠপোষকের পরিবর্তে নতুন পৃষ্ঠপোষক এসেছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা অনলাইন জুয়ার মূল পৃষ্ঠপোষক বলে তারা দাবি করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মুজিবনগরের শিবপুর ও কোমরপুর গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ রাশিয়াপ্রবাসী। তারা সেখান থেকে স্থানীয় তরুণদের অনলাইন জুয়ার কারবারে যুক্ত করেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের শুরুতে মোনালিসার পৃষ্ঠপোষকতায় মুজিবনগরের মাহফুজুর রহমান নবাবের মাধ্যমে সেখানে অনলাইন জুয়ার আসর শুরু হয়। পরে তা জেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ওয়ান এক্সবেট, মেলবেটসহ শতাধিক জুয়ার সাইট ব্যবহার করে কার্যক্রম চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, শুধু মেহেরপুর জেলা থেকেই মাসে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয় অনলাইন জুয়ায়। এতে প্রথম দিকে কেউ কেউ লাভবান হলেও পরে লোভে পড়ে বহু মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়েছেন। অনলাইন জুয়া নিয়ে লেনদেনের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সাগর বৈদ্যের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলে বিস্তার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ রোড এলাকার সেলুনকর্মী সাগর বৈদ্যের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল তিনি প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তবে এরপরও সেখানে জুয়ার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
শ্রীমঙ্গলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফার্ম স্থাপনের পাশাপাশি আশার আলো শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করে এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও দাদন ব্যবসা বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে অনলাইন জুয়ার শতাধিক এজেন্ট ও সুপার এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে।
কুড়িগ্রামে অ্যাপ বিক্রি করে জুয়ার বিস্তার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কলেজছাত্র সুজন মিয়া প্রথম অনলাইন জুয়ার অ্যাপ তৈরি করে এলাকায় ছড়িয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তিনি ৫০ হাজার টাকা করে জুয়া খেলার অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন বা লাইসেন্স বিক্রি করতেন। এসব অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন করা হতো।
অ্যাপ বিক্রির পর রক্ষণাবেক্ষণ সেবাও দিতেন সুজন। তার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন আবুল কালাম ও ভবানী রায়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর মোস্তাক মিয়া ও আলাল হোসেনসহ কয়েকজনের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীর বিভিন্ন গ্রামে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে।
কালিয়ায় জুয়া ও ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা অনলাইন জুয়া ও ইলিশ মাছ বিক্রির নামে প্রতারণার অন্যতম হাব বলে জানিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। গত এক বছরে জেলায় বেশ কয়েকটি অভিযান হয়েছে। এসব অভিযানে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কালিয়ার যাদবপুর, রঘুনাথপুর, চাঁদপুর ও মহিষখোলাসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার অনলাইন জুয়ার কারবারে জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে।
টঙ্গী, লালপুর ও কক্সবাজারেও জুয়ার হাব
পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স টিমের অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। নরসিংদীর মাধবদীতেও এজেন্টদের বড় একটি অংশ রয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী থেকে বিভিন্ন সময়ে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট, সুপার এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটর গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিছু চীনা নাগরিকও এ চক্রে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাটোরের লালপুরে অনলাইন জুয়া ও মোবাইল ফোনের অ্যাপ ইমো হ্যাকিংয়ের একটি বড় চক্র রয়েছে। এ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স টিমের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কক্সবাজারে হোটেল ও বাড়ি ভাড়া করে অনলাইন জুয়া ও স্ক্যাম সাইট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকদের বিরুদ্ধে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় এজেন্টরাও জড়িত। গত সেপ্টেম্বরে দুটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন ও ৪০টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। এসব ডিভাইস ব্যবহার করে ভুয়া আইডি তৈরি করে জুয়া ও আর্থিক জালিয়াতি করা হতো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, কোনো এলাকায় একজন অনলাইন জুয়া থেকে অর্থ উপার্জন শুরু করলে তাকে দেখে অন্যরাও এতে জড়ায়। প্রথমে তারা খেলতে আসে, পরে এজেন্ট ও সুপার এজেন্ট হয়ে যায়।
৫০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে আসক্ত
গত জানুয়ারিতে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে অনলাইন জুয়া মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ৫০ লাখের বেশি নাগরিক অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে আসক্ত। তাদের ৩৮ শতাংশ তরুণ ও যুবক। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০২৭ সাল নাগাদ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে অনলাইন জুয়ার বাজারের আকার প্রায় ৬২ থেকে ৬৮ মিলিয়ন ডলার। এ বাজার প্রতিবছর ৪ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়ছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৭৬৩টি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করে সেগুলো অপসারণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অনলাইন জুয়ার ৮৯টি সাইট শনাক্ত করে অপসারণের জন্য বিটিআরসিকে অনুরোধ করা হয়। এর মধ্যে ৫৭টি সাইট অপসারণ করেছে বিটিআরসি।
সিআইডির একজন কর্মকর্তা জানান, সাইট অপসারণে সাময়িক ফল পাওয়া যায়। তবে মাস্টারমাইন্ডরা প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ায় সামান্য পরিবর্তন করে একই নামে আবার সাইট চালু করে। ফলে তাদের প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিদেশে পাচার হচ্ছে টাকা
সিআইডির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার টাকা কয়েক ধাপে হাতবদল হয়ে বিদেশে পাচার হয়। প্রথমে জুয়াড়ির কাছ থেকে টাকা নেন স্থানীয় এজেন্ট। এরপর তা যায় সুপার এজেন্টের কাছে। শেষ ধাপে দেশে ও বিদেশে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের কাছে পৌঁছে যায়।
মাস্টারমাইন্ডরা টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে সুপার এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিচয় গোপন রাখেন। চীনা ও রুশ ভাষায় কাকে কত টাকা দিতে হবে, সেই তথ্য জানানো হয়। পরে হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের কাছে পাচার হয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অনলাইন জুয়ার টাকা জমা ও উত্তোলন করা হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও নিয়ন্ত্রক রয়েছে। কয়েকটি হাবও তারা পেয়েছেন। হাবের বাইরে ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, মাগুরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জায়গায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও সুপার এজেন্ট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, পুলিশে স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট হওয়ায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, দেশের কয়েকটি অঞ্চল বা হাবে মানুষের মধ্যে অনলাইন জুয়ায় জড়ানোর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকায় এটি মহামারির রূপ নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, জুয়ায় জড়িয়ে লোকসানের মুখে পড়ে অনেকে আর্থিক সংকটে ভোগেন। অর্থের সংস্থান করতে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি হত্যাকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
যেসব এলাকায় মানুষের মধ্যে অনলাইন জুয়ায় জড়ানোর প্রবণতা বেশি, সেখানে এটি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তা না হলে সারা দেশে অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:







