সরকারি নিয়মনীতি না মেনে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর বালু নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, সরকারি জায়গা ও আবাসিক এলাকায় মজুদের অভিযোগ উঠেছে বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন এমন কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডান তীর রক্ষা বাঁধ।
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের পর তা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডান তীর রক্ষা বাঁধ, আঞ্চলিক সড়ক, রেল বিভাগের জমি ও আবাসিক এলাকায় মজুদ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এসব এলাকায় বালু মজুদের সুযোগ না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ কার্যক্রম চলছে।
আবাসিক এলাকার বসতভিটার পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে বালু। এতে বালু পরিবহনের ভারী যানবাহন চলাচলে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বালু উড়ায় ঘরবাড়ি ও চলাচলের পথে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘চোখে-মুখে বালু যায়, ঘরের মধ্যে বালু যায়। আবার যখন এখান দিয়ে বালু ফেলে, তখন পানি দিয়ে ভরে যায়। মানুষের খুব কষ্ট।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাঁধের ওপরই বালু ফেলা হচ্ছে। এতে শহরটি বিপদগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবৈধভাবে বালু ফেলা বন্ধ এবং রাজস্ব ফাঁকি না দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সরকারি জায়গায় বালু মজুদের দাবি ব্যবসায়ীদের
বালু ব্যবসায়ীরা জানান, নিজস্ব জমি না থাকায় সরকারি জায়গায় বালু মজুদ করছেন তারা। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ব্যবসা করে খাব না? আমরা তো আর সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে নিইনি। লিজ নিয়ে আসছি। ব্যবসা করে কিছু হালালভাবে করে খাব।’
তবে স্থাপনার আশপাশে বালু মজুদের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পানি উন্নয়ন বোর্ডের
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ‘স্ট্রাকচার আমরা বাস্তবায়ন করেছি। তার আশপাশে বালু মজুদের কোনো অনুমতি আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমাদের অগোচরে ছিল। নজরে আসার পর ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করেছি।’
তিনি আরও বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
একইভাবে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে বা অন্য কোনোভাবে জানালে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, সরকারি জায়গা ও আবাসিক এলাকায় বালু মজুদ বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:







