বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছে সরকার। এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন। শিক্ষকতা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ১০০ জন শিক্ষককে এবার ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাড়াও চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রের শিক্ষক রয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে নোবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে স্নাতকোত্তর এবং ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রেখেছেন অধ্যাপক বেলাল হোসাইন। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটে জীববৈচিত্র্য বিষয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন।
তার প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৯৩টি এবং মোট সাইটেশন ৯৮৮টি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সম্মেলনে তিনি একাধিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন।
অধ্যাপক বেলাল হোসাইনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র বাস্তুবিদ্যা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ দূষণ। বর্তমানে তিনি নোবিপ্রবির রিসার্চ সেলের পরিচালক এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এ সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। তবে একই সঙ্গে এটি আমার দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষকতা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নয়; শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখানো, গবেষণায় উৎসাহিত করা এবং সমাজ ও দেশের জন্য দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও একজন শিক্ষকের দায়িত্ব। এই সম্মাননা আমাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা ও গবেষণায় কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে। যারা আমাকে এই স্বীকৃতির জন্য যোগ্য মনে করেছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের সহযোগিতাও এ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইনের এ স্বীকৃতিতে নোবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







