শনিবার

৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

দত্তকের নামে ফেসবুকে শিশু কেনাবেচা, চলছে প্রকাশ্যে দর-কষাকষি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৩

শেয়ার

দত্তকের নামে ফেসবুকে শিশু কেনাবেচা, চলছে প্রকাশ্যে দর-কষাকষি
ছবি সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে দত্তকের নামে শিশু বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। সেখানে শিশুর বয়স, লিঙ্গ, অবস্থান ও দাম উল্লেখ করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে দর–কষাকষিও চলছে। অনুসন্ধানে এমন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রতারণা এবং অর্থের বিনিময়ে শিশু হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে।

১২ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্যাক্টচেকার মো. সোহাগ মিয়ার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে ফেসবুকের ৩৯টি পাবলিক গ্রুপ পর্যালোচনা করা হয়। বেশির ভাগ গ্রুপের সদস্যসংখ্যা কয়েক শ হলেও প্রায় ২০ হাজার সদস্যের গ্রুপও রয়েছে। পরিস্থিতি অনুসন্ধানে তিনটি গ্রুপে যোগ দিয়ে পরিচয় প্রকাশ করে ও গোপন রেখে ইনবক্স এবং মুঠোফোনে দর–কষাকষি করা হয়। দুটি গ্রুপ নিয়মিত অনুসরণ করা হয়।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেয়েশিশুর চেয়ে ছেলেশিশুর দাম বেশি। হাতে গোনা কিছু পোস্টে শিশু পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতারণার ঝুঁকি ও অভিজ্ঞতার কথাও রয়েছে বেশ কিছু পোস্টে। কোনো কোনো পোস্টদাতাকে বাটপার বলা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টদাতা একাধিক গ্রুপে সক্রিয়।

কিছু পোস্টে গর্ভকালীন বিভিন্ন পর্যায়ের ডাক্তারি রিপোর্ট কেনার কথা বলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্রুপে শুক্রাণু দান, গর্ভদানের জন্য সারোগেসি এবং যৌনসেবা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফেসবুক গ্রুপে শিশু চাওয়া ও দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি

এক ডজন গ্রুপের ২৮৮টি পোস্ট খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর মধ্যে ৩৪টি পোস্টে দত্তকের জন্য শিশু চাওয়া হয়েছে। আর ৬৩টি পোস্টে শিশু দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এসব পোস্টে ছেলে-মেয়ে উল্লেখের পাশাপাশি বেবি, নিউবর্ন, সন্তান ও যমজ বাচ্চাসহ বিভিন্ন ধরনের চাহিদা ও জোগানের কথা বলা হয়েছে।

কোনো পোস্টে জরুরি ভিত্তিতে ছেলে শিশু চাওয়া হয়েছে। কোথাও অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে শিশু প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। একজন ৫০ হাজার টাকা বাজেটে ১০ দিন থেকে এক মাস বয়সী ছেলে শিশু চেয়েছেন।

এক নারী পাঁচ-ছয় মাসের গর্ভবতী নারীর সঙ্গে চুক্তি করে সিজারিয়ানের খরচ দিয়ে শিশুকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরেকজন অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার জন্য তিন-চার মাস বয়সী সুন্দর ও ফরসা মেয়ে শিশু চেয়েছেন।

আরেক পোস্টে এক নারী শিশুকে দত্তক দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, পরিবারের চাহিদা রয়েছে। কোনো অগ্রিম লাগবে না, এসে দেখে কথা বলে কাগজপত্র সম্পন্ন করে শিশুকে নিয়ে যেতে হবে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

শিশু নিতে আগ্রহীদের ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে বিভিন্ন পোস্টে। শিশু দিতে আগ্রহী আটজনের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অথবা পরিচয় গোপন রেখে মুঠোফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হয়।

দুই লাখ টাকার শিশুর খোঁজে যা জানা গেল

ছয় মাস বয়সী ছেলে শিশুর জন্য দুই লাখ টাকা চেয়ে দেওয়া একটি পোস্টের ব্যক্তি একাধিক ফেসবুক গ্রুপে সক্রিয়। যোগাযোগের সময় তিনি জানান, শিশুটির মায়ের অনুরোধেই তিনি পোস্টটি দিয়েছেন এবং শিশুটি বিক্রির সঙ্গে তিনি নিজে জড়িত নন। পোস্টে মায়ের ফোন নম্বর না থাকলেও তিনি একটি নম্বর দেন।

পোস্টে শিশুটির অবস্থান চট্টগ্রাম বলা হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে এক নারী জানান, তিনি নরসিংদীতে থাকেন। শিশুটি নিতে চাইলে তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। ছয় মাস ধরে শিশুটিকে লালন-পালন, প্যাম্পার্স কেনা ও প্রসবের খরচ মিলিয়ে তাঁর ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্বামী চলে যাওয়া, আরেকটি সন্তান থাকা এবং পারিবারিক সমস্যার কারণে শিশুটিকে দিতে চান বলেও জানান ওই নারী। তিনি নিজের নাম-ঠিকানা দেননি এবং যোগাযোগকারী ব্যক্তির পরিচয়ও জানতে চাননি। নরসিংদী গিয়ে ফোন করলে ঠিকানা দেবেন অথবা ক্রেতার ঠিকানায় শিশুকে পৌঁছে দেবেন বলে জানান।

শিশুটিকে দেখানোর জন্য হোয়াটসঅ্যাপে একটি শিশুর ছবি ও টিকার কার্ড পাঠানো হয়। ওই কার্ডে বাবার নাম রাকিব হাসান এবং ঠিকানা গাজীপুরের কাপাসিয়া লেখা ছিল। ওই নারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও রাকিব হাসানের নামে ছিল।

পরে ওই পোস্টদাতা জানান, ফেনী থেকে একজন এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিতে চাচ্ছেন। তবে তিনি দুই লাখ টাকা চাচ্ছেন। পরে আবার দাবি করেন, তাঁর উদ্দেশ্য ওই মাকে সাহায্য করা এবং তিনি কোনো টাকা পাবেন না।

আরেকটি ঘটনায় কাদের কাদের নামের এক ব্যক্তি দেড় থেকে দুই বছর বয়সী একটি শিশুর সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করেন। শিশুটিকে নিজের সন্তান দাবি করে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে দেবেন। স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধের জন্য তিন লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেলেকে দত্তক দেওয়ার কথা বলেন। পরে মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, নিজের সন্তান নিজে দত্তক দিলে কোনো সমস্যা নেই।

দালালের মাধ্যমে নবজাতক দেওয়ার তথ্য

একটি গ্রুপের মাধ্যমে পাওয়া এক নারী দালাল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সন্তান রাখতে অনিচ্ছুক গর্ভবতী নারীদের তাঁরা খুঁজে পান। গর্ভবতী নারী সন্তান দিয়ে দিতে রাজি হলে সংঘবদ্ধ চক্র প্রসব পর্যন্ত তাঁর দেখভাল করে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছেলে নবজাতকের দাম তিন লাখ এবং মেয়ের দুই লাখ টাকা। দালালেরা কমিশন পান।

এদিকে কুষ্টিয়ার আবদুল আলিম একটি গ্রুপে লিখেছেন, তিনি তিনবার প্রতারিত হয়েছেন। তিনি জানান, সর্বশেষবার একটি নবজাতকের জন্য দাম ঠিক করার পর এক নারী হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে শিশুটিকে দেখান। পরে পথখরচের জন্য অগ্রিম ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়।

বিশ্বাস করে বিকাশে টাকা পাঠানোর পর ফেসবুকের সেই গ্রুপটি উধাও হয়ে যায়। হোয়াটসঅ্যাপসহ সংশ্লিষ্ট সব নম্বরও তাঁকে ব্লক করা হয়।

শিশু হস্তান্তর নিয়ে আইনবিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন কমিশনের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফউজুল আজিম মনে করেন, শিশু দত্তক, নবজাতক প্রয়োজন, শিশু নিতে চাই কিংবা অর্থের বিনিময়ে শিশু দেওয়ার মতো পোস্টকে সম্ভাব্য শিশু পাচার বা শোষণের ঝুঁকি হিসেবে দেখা দরকার। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার উচিত এসব বিষয় প্রাথমিকভাবে যাচাই করা।

তিনি বলেন, এ ধরনের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বা দরদাম বাস্তবে শিশুর হস্তান্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকলে টাকা কারা নিচ্ছে, কোনো মধ্যস্থতাকারী বা চক্র আছে কি না এবং শিশুকে ভবিষ্যতে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, তা তদন্তে দেখা প্রয়োজন।

ফউজুল আজিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেআইনি ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোনো শিশুকে বেচা, কেনা বা হস্তান্তর করলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭২ ও ৩৭৩ ধারায় কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে অসৎ উদ্দেশ্যে দত্তক গ্রহণকে শোষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, এভাবে শিশু কেনাবেচার পর তারা কোথায় যাচ্ছে বা কী কাজে জড়ানো হচ্ছে, তার কোনো নজরদারি থাকে না। তাঁর মতে, অনেকে হয়তো এ ধরনের ব্যবসার জন্যই সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন এবং বিষয়টিতে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন।

বাংলাদেশে সাধারণ দত্তক আইনের কাঠামো নেই

বাংলাদেশে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো সাধারণ দেওয়ানি দত্তক আইন নেই। দেশের পারিবারিক আইনগুলো ধর্মভিত্তিক। মুসলিম পারিবারিক আইনে দত্তকের বিধান নেই।

আইনজীবীদের মতে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানরা ধর্মীয়ভাবে দত্তক নিতে পারেন। ধর্মনির্বিশেষে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে শিশুর আইনি অভিভাবকত্ব নেওয়া যায়।

২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী, শিশুকল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বিকল্প পরিচর্যার দায়িত্ব হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে। তবে দত্তক বা বিকল্প পরিচর্যার ক্ষেত্রে নজরদারির বিধান মূলত এসব ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত।

সরকারিভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছয়টি ছোটমণি নিবাসে থাকা শিশুদের আদালতের মাধ্যমে অভিভাবকত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার আজিমপুর ছোটমণি নিবাসের সাবেক উপতত্ত্বাবধায়ক জুবলি বেগম বলেন, নিঃসন্তান দম্পতিরা যেকোনো উপায়ে সন্তান চান। ফলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় শিশু বেচাকেনার চক্র সক্রিয় হচ্ছে।

কয়েকটি বেসরকারি সংগঠন বা সংস্থাও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর আইনি অভিভাবকত্ব হস্তান্তরের কাজ করে। আবার আইনবহির্ভূতভাবে দত্তক দেওয়ার প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক ফি নিয়ে শিশুর অভিভাবকত্ব হস্তান্তর

১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলার বারান্দায় বাচ্চা দত্তক দেওয়ার বিষয়ে একটি নোটিশ দেখা যায়। সেখানে দুটি ফোন নম্বর ও যাত্রাবাড়ীর একটি ঠিকানা দেওয়া ছিল। ৩০ আগস্ট ওই ঠিকানায় গিয়ে আল-বোখারি কেয়ারগিভিং সার্ভিসেস লিমিটেডের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় আইইউআই, আইভিএফ, সারোগেসিসসহ বন্ধ্যাত্ব রোগীর চিকিৎসা-সেবা সহায়তার কথা রয়েছে। পাশাপাশি শিশুর আইনগত অভিভাবকত্ব শিরোনামে নবজাতক বা এতিম শিশুর দত্তকের বিষয়ে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল আহাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের নিজস্ব প্যাডে শিশু দেওয়া ও নেওয়ার জন্য আবেদন ফরম রয়েছে। দত্তক বা আইনগত অভিভাবকত্ব গ্রহণের আবেদনপত্রে কোম্পানিকে কনসালটেন্সি সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরম অনুযায়ী, শিশু নিতে ইচ্ছুক পক্ষ কোম্পানিকে ৩৫ হাজার টাকা সম্মানী দেবে। তবে আবদুল আহাদ মৌখিকভাবে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছেন। ব্যবস্থাপনা খরচ হিসেবে এই অর্থ নিয়ে কোম্পানি দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

এর বাইরে শিশুদাতা পরিবারকে চাহিদামতো অর্থ দিতে হয়। সিজারিয়ান করে সন্তান প্রসব হলে তার খরচও বহন করতে হয়। সব মিলিয়ে খরচ প্রায় দুই লাখ টাকায় পৌঁছায়।

কোম্পানিটি দুই পক্ষের জন্য সম্মতিনামা ও সমঝোতা দলিলও সরবরাহ করে। চুক্তিতে দুই পক্ষ সই করার সময় কোম্পানির দুজন প্রতিনিধি সাক্ষী হিসেবে সই করেন।

আবদুল আহাদ জানান, দলিলটি কম্পিউটারের দোকান থেকে অ্যাফিডেভিট করানো হয়। সই-সাবুদের পর শিশু হস্তান্তর করা হয় এবং এরপর কোম্পানির দায়িত্ব শেষ। আদালতে আইনি অভিভাবকত্বের বিষয়ে তাঁরা কোনো কাজ করেন না। স্থানীয় থানা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেও পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশ পাননি বলে জানান তিনি। এখন তাঁরা নিজেদের মতো করে কাগজপত্র রাখছেন।

আবদুল আহাদের দাবি, তাঁর জানামতে অনেক প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে শিশু দত্তক দেওয়ার কাজ করে। কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাঁর মতে, দত্তক দেওয়া-নেওয়ার চাহিদা অনেক বড়।

তিনি এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন, যিনি কয়েক দিন আগে তাঁদের কোম্পানির মাধ্যমে একটি ছেলে শিশু দত্তক নিয়েছেন। ওই ব্যক্তি জানান, তাঁর ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন নিজেদের সন্তান পরিচয়ে শিশুটির জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজ তৈরির উদ্যোগ নেবেন।

এ সময় এক নারী আবদুল আহাদকে ফোন করেন। তিনি জানান, তিনি আসন্নপ্রসবা এবং আরেকটি সন্তান পালনের সামর্থ্য তাঁর নেই। এক লাখ টাকা ও অস্ত্রোপচারের খরচ দিলে তিনি গর্ভের ছেলে শিশুটিকে দত্তক দিতে রাজি।

ফেসবুকের কার্যক্রমকে অপরাধ বলছে পুলিশ

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ফেসবুকে শিশু দত্তক দেওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টি তাঁর জানা আছে। তবে এভাবে শিশু বিক্রির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি।

সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, উদ্দেশ্য যা-ই হোক, ফেসবুকে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো অপরাধ। তবে সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম দত্তকের নামে গ্রুপ খুলে শিশু বিক্রির তৎপরতার জন্য এখন পর্যন্ত কাউকে আইনের আওতায় আনেনি।

অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও এর বাইরে সন্তান দত্তক নেওয়ার চাহিদাকে কেন্দ্র করে শিশু দেওয়ার প্রস্তাব, অর্থের দরদাম এবং প্রতারণার ঘটনা রয়েছে। আইনবিশেষজ্ঞ শাহনাজ হুদা দেশের এতিম ও অসহায় শিশুদের দত্তক বা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সর্বজনীন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনের কথা বলেছেন।

আইন গবেষক ও সাবেক বিচারক ফউজুল আজিম বিষয়টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের তত্ত্বাবধানে দত্তকের জন্য একটি কাঠামো তৈরির প্রয়োজনের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সেই কাঠামোয় নজরদারির পাশাপাশি শিশুর সুরক্ষার বিষয়গুলোও থাকতে হবে।



আরও পড়ুন: