চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু সিদ্দীক (৭০) রয়েছেন, তিনি কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দর্শনা থানার এসআই (নিঃ) মোল্ল্যা আরিফুল ইসলাম রাত্রীকালীন মোবাইল ডিউটি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে পুলিশ জানতে পারে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ দর্শনা চন্ডিপুর পূর্বপাড়ার মৃত তরিবত মন্ডলের ছেলে মো. আবু সিদ্দীক (৭০) কে আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য, আবু সিদ্দীককে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় সরকারি কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশের হেফাজতে থাকা আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তাদের ফেলে যাওয়া নয়টি বিভিন্ন মাপের বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া জব্দ করা হয়।
পরে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেয়া পলাতক আসামি মো. আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ঘটনায় মোট ৯ জন গ্রেপ্তার হলেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন—চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের তরিবত মন্ডলের ছেলে মো. আবু সিদ্দীক (৭০); রবি হালদারের ছেলে লক্ষণ (৩৮); মো. সেলিম উদ্দিনের ছেলে মো. ফিরোজ হোসেন (১৯); হারুন অর রশিদের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (১৯); শ্রী মিলন হালদারের মেয়ে ও সঞ্জিত হালদারের স্ত্রী সোনালী হালদার (৩০); নব কুমার বিশ্বাসের মেয়ে ও সঞ্জয় হালদারের স্ত্রী কণা রাণী (২৫); মো. খোকনের স্ত্রী মোছা. নাছিমা বেগম (৪০); সদর মন্ডলের ছেলে আলম বাদশা (৫৫) এবং হরেন হালদারের ছেলে ফুলন হালদার (৩২)। গ্রেপ্তার সবাই চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া, থানা-গ্রেপ্তাররা হলেন—চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের তরিবত মন্ডলের ছেলে মো. আবু সিদ্দীক (৭০); রবি হালদারের ছেলে লক্ষণ (৩৮); মো. সেলিম উদ্দিনের ছেলে মো. ফিরোজ হোসেন (১৯); হারুন অর রশিদের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (১৯); শ্রী মিলন হালদারের মেয়ে ও সঞ্জিত হালদারের স্ত্রী সোনালী হালদার (৩০); নব কুমার বিশ্বাসের মেয়ে ও সঞ্জয় হালদারের স্ত্রী কণা রাণী (২৫); মো. খোকনের স্ত্রী মোছা. নাছিমা বেগম (৪০); সদর মন্ডলের ছেলে আলম বাদশা (৫৫) এবং হরেন হালদারের ছেলে ফুলন হালদার (৩২), গ্রেপ্তারকৃত সবাই দর্শনা চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:







