যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো সাত আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।
অব্যাহতি চাওয়া সাতজন হলেন- মো. আব্দুল খালেক, মো. এনামুল হক, আব্দুর রহমান শাওন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি, এস এম আজাহার হোসেন স্বপন, কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল ও মো. ইমন কাজী।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হোটেলটি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন। শহরের চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে অবস্থিত পাঁচ তারকা মানের এই আবাসিক হোটেলটিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারে বলা হয়, ওইদিন অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা লুট করে। এরপর ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, স্টোরে রাখা বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন, ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।
পরে গানপাউডার ও পেট্রোল দিয়ে হোটেলের ১ম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে হোটেলে থাকা একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন।
এছাড়া হোটেলের আলমারিতে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, যাবতীয় বৈদ্যুতিক সামগ্রী, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও গ্লাস দরজার ডেকোরেশনসহ মূল ইমারতের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার ১৩ দিন পর, ১৮ আগস্ট সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
আরও পড়ুন:







