বৃহস্পতিবার

১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

বগুড়ায় নারী বাসে যাত্রী খরা,সরকারের গচ্চা মাসে লাখ লাখ টাকা

আবুল কালাম আজাদ,বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০০

শেয়ার

বগুড়ায় নারী বাসে যাত্রী খরা,সরকারের গচ্চা  মাসে লাখ লাখ টাকা
ছবি: বাংলা এডিশন

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে বগুড়ায় চালু করা হয়েছিল বিশেষ বাস সার্ভিস। ভাড়াও রাখা হয়েছে সাধারণ পরিবহনের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু চালুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেবাটি ঘিরে তৈরি হয়নি প্রত্যাশিত যাত্রীচাহিদা। দিনের বিভিন্ন সময়ে ৪৫ আসনের বাসে হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী নিয়েই চলতে হচ্ছে।

ফলে যাত্রীসেবার পাশাপাশি আর্থিক চাপও বাড়ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুটি বাস পরিচালনায় প্রতি মাসে লোকসানের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে তিন লাখ টাকা।

গত ১৮ আগস্ট বগুড়া বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী বাস সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে দুটি বাস নির্ধারিত দুটি রুটে চলাচল করছে। একটি বাস মাটিডালী হয়ে শেরপুর এবং অপরটি বনানী হয়ে মোকামতলা রুটে চলছে।

বিআরটিসি ডিপো সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরগামী বাসটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় বগুড়া ডিপো থেকে ছাড়ে। পরে বিকেল ৪টায় শেরপুর থেকে ফিরে আসে। অন্যদিকে মোকামতলাগামী বাসটি দুপুর ১২টার দিকে ডিপো ছাড়ে এবং বিকেল ৪টায় ফিরে আসে।

এই সময়সূচিই যাত্রী কম হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের অনেকের কর্মস্থলে পৌঁছানোর প্রয়োজন হয় সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে। অথচ শেরপুর রুটের বাসটি শহর ছাড়ে সকাল ৭টায়। আবার মোকামতলা রুটের বাস ছাড়ে দুপুরে। ফলে সকালবেলার যাত্রীরা এ সেবা থেকে কার্যত বঞ্চিত হচ্ছেন।

শেরপুরে একটি কলেজে কর্মরত শামিমা বেগম বলেন, মহিলা বাসে যাতায়াতের আগ্রহ থাকলেও সময়সূচি তাঁর কর্মঘণ্টার সঙ্গে সবসময় মেলে না। সুবিধাজনক সময়ে বাস চলাচল করলে আরও বেশি নারী এই সেবা ব্যবহার করতেন বলে মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি শেরপুর ও মোকামতলা রুটে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাস দুটির অধিকাংশ আসনই খালি। পথিমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীকে উঠতে দেখা গেলেও কর্মজীবী নারীর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যাতায়াতের প্রয়োজনের মিল না থাকায় তাঁরা বিকল্প হিসেবে অটোরিকশা, ইজিবাইক কিংবা রিকশা ব্যবহার করছেন। ফলে কম ভাড়ার সুবিধা থাকলেও নারী বাসে নিয়মিত যাত্রী তৈরি হচ্ছে না।

বিআরটিসি সূত্র বলছে, বগুড়া থেকে শেরপুরের প্রচলিত বাসভাড়া ৭২ টাকা হলেও নারী বাসে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা। এরপরও যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে না।

দুটি বাস পরিচালনায় বর্তমানে ছয়জন নারী ও একজন পুরুষ কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের খাবার ভাতা বাবদ প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। এর পাশাপাশি রয়েছে কর্মীদের বেতন, জ্বালানি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়।

বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) শাহিনুর ইসলাম বলেন, যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কম ভাড়ায় সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বর্তমানে দুটি বাস থেকেই কাঙ্ক্ষিত আয় পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি জানান, দুটি বাসে মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকার ডিজেল প্রয়োজন হয়। সব ধরনের ব্যয় হিসাব করলে মাসে তিন লাখ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী বাস সার্ভিসের উদ্দেশ্য ও ভাড়ার সুবিধা থাকলেও বাস্তব যাতায়াতের চাহিদার সঙ্গে রুট ও সময়সূচির সমন্বয় না থাকলে যাত্রী বাড়ানো কঠিন। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য যাত্রী কখন এবং কোন পথে বেশি যাতায়াত করেন—তা বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হলে সেবাটির ব্যবহার বাড়তে পারে।



আরও পড়ুন: