রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ। বাজারে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোথাও বেশি দামে বিক্রি, কোথাও অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং খালি সিলিন্ডার বদলানোর সময় নানা ধরনের বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক দোকানে সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা চাওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা দাম জানতে চাইলে অনেক বিক্রেতা সরবরাহ সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি কিংবা বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। আবার কিছু এলাকায় একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের দাম দোকানভেদে ভিন্ন হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।
সাভার বাসস্ট্যান্ড, উলাইল, গেন্ডা, হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, আশুলিয়ার বাইপাইল, জামগড়া, শিমুলিয়া, জিরাবো, শ্রীপুর, জিরানি ও ভাদাইলের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতাদের এমন ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মাসের শুরুতে কিংবা চাহিদা বাড়ার সময় অনেক পরিবারকে একাধিক দোকান ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী চাকুরীজীবি নূরজাহান বলেন, প্রতিমাসেই রান্নার গ্যাস কিনতে হয়। কিন্তু দোকানে গেলে একেকজন একেক দাম বলেন। দাম নিয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়েই সিলিন্ডার কিনছি।
আরেকজন শ্রমজীবী শামসুল মিয়া বলেন, সংসারের আয় সীমিত। চাল, ডাল, তেলসহ সবকিছুর দাম সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হলে পরিবারের অন্যান্য খরচ কমাতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দাম বেশি নেওয়াই নয়, অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রেও অনিয়ম রয়েছে। পছন্দের ব্র্যান্ড না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ। আবার খালি সিলিন্ডার ফেরত দেওয়ার পর নতুন সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ নিয়েও ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে।
এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন বিক্রেতার দাবি, পরিবহন ব্যয়, ডিলার পর্যায়ের মূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে খুচরা বাজারে দামের পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, এসব কারণ দেখিয়ে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভোক্তাদের দাবি, এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য স্পষ্টভাবে দোকানে প্রদর্শন, ওজন ও সিলিন্ডার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধে নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, সাভার ও আশুলিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক পরিবার এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। তাই গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সিলিন্ডার কেনার সময় মূল্যতালিকা, রসিদ এবং সিলিন্ডারের ওজন ও নিরাপত্তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:







