বৃহস্পতিবার

১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ বন্দি ঝিনাইদহ কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১২

শেয়ার

ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ বন্দি ঝিনাইদহ কারাগারে
ছবি সংগৃহীত

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় চারগুণ বন্দি থাকায় বেড়েছে অতিরিক্ত চাপ। জায়গার সংকটে কারাগারের মালামাল রাখার স্থান এবং বিভিন্ন কক্ষের বাইরের বারান্দাতেও বন্দিদের রাখা হচ্ছে। এতেও পরিস্থিতির পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ৩৮২ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে ১২০০ বন্দি রয়েছেন। অর্থাৎ নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৮৫০ জন বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত বন্দির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনাতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

জেলার ছয়টি উপজেলায় মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছামারি পাওয়ারে ৩, ৬ ও ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া এবং আপিল ও জামিন না হওয়ার কারণেও বন্দির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া বিশেষ অভিযানে জেলার ছয়টি উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের কারণেও জেলা কারাগারে বন্দির চাপ বেড়েছে বলে জানা গেছে।

আবাসন ও স্যানিটেশনে বাড়তি চাপ

অতিরিক্ত বন্দির কারণে আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। আবাসিক কক্ষগুলোতে অতিরিক্ত বন্দি থাকায় পর্যাপ্ত জায়গা, ঘুমানোর ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি টয়লেট, গোসল, পানি সরবরাহসহ অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কারা কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

বাড়তি দায়িত্বে কারারক্ষীরাও

বন্দিদের পাশাপাশি কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বাড়তি চাপের মুখে রয়েছেন। নির্ধারিত জনবলের তুলনায় বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বেশি থাকাকে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন। বিশেষ করে বিচারাধীন বন্দিদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলার স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৮২ জন। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২০০। ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি বেশি থাকায় ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

তারা আরও বলেন, বন্দির সংখ্যা বেশি হলেও কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বন্দিদের মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কারা ব্যবস্থাপনার সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।