বৃহস্পতিবার

১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে মৃত পাঁচ জনের নামে মামলা, ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

মো.সম্রাট হোসাইন,পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪৯

শেয়ার

পঞ্চগড়ে মৃত পাঁচ জনের নামে মামলা, ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবৈধ ভাবে পাথর বালি উত্তোলনের অভিযানে মেশিন জব্দের ঘটনায় মৃত ৫ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ও নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ ও ভজনপুর ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। মামলার বাদী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবী জানান মৃত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয়রা।প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের পোহাতুগছ এলাকায় অবৈধ ভাবে

পাথর-বালি উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ। অভিযানে তিনটি মেশিন জব্দ করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় পাঠানো হয় ৷ অভিযানের পর ওই রাতেই ভজনপুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র বর্মন ২২ জনকে আসামী করে খনি ও খনিজ সম্পদ ১৯৯২ এর ৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন৷

তবে অভিযোগ উঠেছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে মামলায় আসামীর তালিকায় কয়েক দশক আগে মারা যাওয়া ৫ ব্যক্তিরসহ নিরাপরাধ মানুষের নামে মামলা দায়ের করেছে ওই কর্মকর্তারা। প্রশ্ন উঠেছে তহশিলদার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েও৷

মামলার এজাহারে দেখা যায়,মামলায় ১নং আসামী করা হয়েছে উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের কাউরগছ এলাকার ফয়জুল হককে,স্থানীয় ভাবে তিনি ফজলু মেম্বার নামে পরিচিত ছিলেন৷ স্থানীয় ও স্বজনদের দাবী তিনি প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে মারা গেছেন৷ একই মামলায় ২ নং আসামী করা হয়েছে তার আপন মৃত দাদা মহর আলীর নামেও ৷ তিনিও প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে মারা গেছেন৷ জড়িত নয় পরিবারের এমন আরও বেশ কয়েকজনকে মামলায় আসামী করা হয়েছে৷ এছাড়া একই মামলায় ৫নং আসামী করা হয়েছে মহামু্দ্দিন নামে আরেক মৃত ব্যক্তির নামে৷ তিনি মারা গেছেন অনেক আগে৷ ১০নং আসামী করা হয়েছে রমজান আলী এবং এজাহারে ১৪ নম্বর আসামী করা হয়েছে মজিবর রহমানকেও। তারা দুজনেও মারা গেছে জানায় স্বজ্বন ও স্থানীয়রা৷

স্থানীদের অভিযোগ, ওই এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মেশিন দিয়ে বালি-পাথর উত্তোলন করা হলেও অভিযানে মাত্র ৩টি মেশিন জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মৃত ও নিরাপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় আসামী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় আসামী মৃত ফয়জুল হক ও মোহর আলীর স্বজন সাদেকুল ইসলামের সাথে,তিনি বলেন,আমর দাদা ও বড় ভাই অনেক বছর আগেই মারা গেছে৷ তারা জমির মালিক ছিল বিক্রিও করছে অনেক আগে। কয়েক দিন আগে পোহাতুগছ এলাকায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মেশিন জব্দ করেছে৷ পরে আমরা জানতে পারি মামলায় আমার মৃত দাদা, বড় ভাই ও আমার নামেসহ আরও পরিবারের বেশ কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করেছে৷

এদিকে মামলার আরেক আসামী মৃত মহামুদ্দিনের নাতি সামিউল ইসলাম বলেন,আমার দাদাকে আমি জন্মের পর দেখিনি। আমার বাবার বয়স যখন ৪-৫ বছর তখন দাদা মারা গেছেন। এখন মামলায় দেখি আমার মৃত দাদার নাম৷ তিনি মারা গেছেন, তার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে ঘটনাটি দু:খ জনক৷

মামলার বাদী ও ভজনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায় জানান,

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির হোল্ডিং দেখে মামলাটি করা হয়েছে। একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূৃমি) এস. এম আকাশ বলেন,

মামলা করা হয়েছে। মামলা চলমান, পুলিশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিবে৷ প্রত্যাহারে বিষয়ে আমরা বলেছি যে,মামলায় কিছু ত্রুটি হয়েছে,এটা প্রত্যাহারের জন্য বলছি। রিপোর্ট দিলে পরে ওই ভাবে মামলার ব্যবস্থা করা হবে৷

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসাইন বলেন,এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অপরাধের সাথে জরিত না, মামলায় মৃত ব্যক্তির নাম। এটা দেখতেছি, কিভাবে এটা সংশোধন করা যায়।