বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ

টাঙ্গাইল, প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০০

শেয়ার

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ
ছবি: বাংলা এডিশন

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিএনপি নেতা ও একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোটার স্থানান্তর করার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ভূঞাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, তার নিজের ও নিকট আত্মীয়দের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে স্থানান্তর করে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার করা হয়েছে।

অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরমে দেয়া স্বাক্ষর তার ও তার আত্মীয়দের কারোরই নয়। একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একইভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের অন্তত ১৫ জন ভোটার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের অজান্তেই ভোটার তালিকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল মিঞা বলেন, এনআইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে জানতে পারেন, কুতুবপুরের পরিবর্তে তার ঠিকানা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুনা গ্রামে দেখানো হয়েছে। পরে বাবার এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করেও একই ঠিকানা দেখতে পান। তার বাবা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।

জুয়েলের অভিযোগ, তাদের স্বাক্ষর জাল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে। তার চাচা সাবেক কাউন্সিলরসহ পরিবারের মোট ৯ জনের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগী সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন দুলাল জানান, তিনিও কাউন্সিলর প্রার্থী। তাকে সহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ উল্লেখ করে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

আরেক ভুক্তভোগী মো. জয়েন বলেন, “আমি ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। আমি সহ এই ওয়ার্ডের যারা কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন, সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।” তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

ভুক্তভোগী নূরুল আমীন বলেন, “আমার নামে বিদ্যুতের মিটার না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিদ্যুৎ মিটারের কাগজ জমা দেয়া হয়েছে। আমার সব ভুয়া কাগজপত্র অফিসে জমা দিয়ে এমন কাজ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের অফিসে আসার আহ্বান জানিয়েছি। অতি শিগগিরই তাদের সমস্যা সমাধান করা হবে।”