বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

হকার উচ্ছেদ ঘিরে মিরপুরে সংঘর্ষ, আগুন ও ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:২৫

শেয়ার

হকার উচ্ছেদ ঘিরে মিরপুরে সংঘর্ষ, আগুন ও ভাঙচুর
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করলে হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতের দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। এ সময় ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফুটপাতের হকার ও ব্যবসায়ীদের কয়েকজন ডিএনসিসির তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সময়ে একটি ভেকু ও পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিব হোসেন এ তথ্য জানান। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট কাজ করে।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও ইটপাটকেল

অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের পাশাপাশি ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর আইডিয়াল কলেজের সামনে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের একটি দলকে অবস্থান করতে দেখা যায়। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুর পৌনে ১২টার পরও ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এর জবাবে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় পুলিশের সদস্যদের তুলনায় ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি ছিল। ইটপাটকেলের মুখে পুলিশ সদস্যরা কিছুটা পিছু হটেন।

এদিকে ঘটনাস্থলে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে যাওয়া সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও হকারদের কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে হেনস্তা এবং তাদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

অভিযান অব্যাহত রাখার কথা ডিএনসিসি প্রশাসকের

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিজমের আমল থেকে যারা ফুটপাত দখল করে রেখেছিল, তারা এবং তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে। পরে স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমাদের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে। নগরসেবার জন্য এবং নগরবাসীকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিজমের দোসররা মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতার সৃষ্টি করেছে। এ সময় তার সঙ্গে মিরপুর জোনের বিভাগীয় ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, স্থানীয় ও মিরপুর থানার কর্মকর্তারা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাকিবুল হাসান এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘোষণা

অরাজকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হবে এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে। তদন্ত করে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।

অবৈধভাবে কাউকে ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়, তারা ফ্যাসিজমের দোসর—এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তিনি মিরপুরের সন্তান এবং তার জন্ম এখানেই। কারা কী করে, তার চেয়ে বেশি কেউ জানার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।