বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, হতবাক গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৯

শেয়ার

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, হতবাক গ্রাহক
ছবি সংগৃহীত

মাগুরার সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল পেয়েছেন এক গ্রাহক। অস্বাভাবিক এই বিল দেখে গ্রাহক ও তাঁর স্বজনরা হতবাক হন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিলটি ইস্যু করা হয়। বিলের হিসাবে দেখা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে তাঁর বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

এই ব্যবহারের বিপরীতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়েছে। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়। এতে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট বিল দাঁড়ানোর কথা ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ সেই বিলের পরিমাণ ২ হাজার ৫৬ টাকা।

১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। এতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে এলটি-এ (আবাসিক) উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুলের ব্যাখ্যা দিল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, এই বিল শুধু ভুতুড়ে নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে তাঁদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার চান তিনি।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটি টাইপিং মিসটেকের কারণে হয়েছে। গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়।

তিনি জানান, পরে বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধ করেছেন। এ ভুলের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।