ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দীন খান।
তিনি বলেন, কমিটিকে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির গাফিলতি থাকলে তার কারণ উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটার প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। আজ বিকেলে কমিটি সিলগালা খামে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করেছেন, সে আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় লিফল কট্রোল রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচন্ড ধোঁয়া বের হতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় পুলিশের তথ্যে ছয়জন মারা যাওয়া খবর সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। পরে চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন দুজন আগুনের আতঙ্কে মৃত্যু হওয়ার কথা স্বীকার করে।
এদিকে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন সোমবার রাতেই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে কমিটির প্রধান করা হয় হাসপাতালের ইউনিট প্রধান (মেডিসিন) অধ্যাপক ডা গোলাম রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন- হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন নেত্রকোনার কেন্দুয়ার উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) মো. মাজেদুর রহমান ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।
হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। হাসপাতালের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে রাখায় আলোচনা- সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সঠিক তদন্ত হবে কি;না এ নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন। এরইমধ্যে সমালোচনার মুখে পাঁচ সদস্যের কমিটি বাতিল করে মঙ্গলবার নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগের কমিটিতে থাকা ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তার নাম বাদ দেওয়া হয়।
এদিকে হাসপাতাল প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল গত ২০ সেপ্টেম্বর। তবে তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় আরও পাঁচ কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবুও তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় আরও তিন কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী আজ সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হলো।
আরও পড়ুন:







