মঙ্গলবার

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

রোহিঙ্গা নারীকে নাগরিকত্ব সনদ: কামারখন্দে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী অপসারিত

সবুজ এইচ সরকার,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩১

শেয়ার

রোহিঙ্গা নারীকে নাগরিকত্ব সনদ: কামারখন্দে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী অপসারিত
ছবি: বাংলা এডিশন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় রোহিঙ্গা নারী মোছা. রোকেয়া বেগমকে নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ দেওয়ার ঘটনায় ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. লিয়াকত আলীকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কামারখন্দ উপজেলার ১ নম্বর ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. লিয়াকত আলী বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও মোছা. রোকেয়া বেগমকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন। এ ঘটনায় তাঁকে গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। পরে লিয়াকত আলীর দেয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে একই আইনের ৩৪(৬) ধারায় তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ লিয়াকত আলীর পদ বহালের বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে আবারও চার মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত লিয়াকত আলী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে জানান ইউএনও।

যেভাবে ধরা পড়ে রোকেয়া-আনিছের পরিচয়

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট রোকেয়া বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আনিছ ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করতে গেলে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সন্দেহ হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা কক্সবাজারের উখিয়ার টেংখালী ক্যাম্প-১২-এর জি-৪ ব্লকের রোহিঙ্গা শরণার্থী বলে স্বীকার করেন।

ওই দিনই কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ রানা বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ রোকেয়া বেগম ও তাঁর স্বামী আনিছকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

এ ঘটনায় রোহিঙ্গা নাগরিককে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।