সোমবার

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঝালকাঠিতে ধর্ষণ মামলার আসামিকে বিয়ে চান বাদী, আদালতে হট্টগোল

মোঃ জাহিদ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৪

শেয়ার

ঝালকাঠিতে ধর্ষণ মামলার আসামিকে বিয়ে চান বাদী, আদালতে হট্টগোল
ছবি সংগৃহীত

ঝালকাঠিতে ধর্ষণ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামির শাস্তি না চেয়ে তাকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার দাবি জানিয়ে আদালতে হট্টগোল করেছেন মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০)। এ সময় আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা না করলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তিতর্ক চলাকালে বাদী রুনু আক্তার বারবার উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন এবং হট্টগোল শুরু করেন। বিচারক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক তাকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন। বিচারক বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে। তবে আদালত কাউকে বিয়েতে বাধ্য করতে পারে না।

এ সময় রুনু আক্তার বলেন, তিনি আসামির শাস্তি চান না, বরং তাকে স্বামী হিসেবে চান। একই সঙ্গে আসামির চাকরি ফিরে পাওয়ারও দাবি জানান তিনি।

পরে আদালতে কাজী ডেকে আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি করেন রুনু। বিয়ের ব্যবস্থা না করলে আদালতের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

মামলার অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলা নম্বর ১২৫/২৩-এর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য ছিল। মামলার বাদী রাজাপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে রুনু আক্তার। আসামি সাবেক এএসআই মো. আল-আমিন মোল্লা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিয়ের নাটক সাজিয়ে আল-আমিন মোল্লা রুনু আক্তারকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়।

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আল-আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, বাদী, তার নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে বাদী নিজেই আরও দুজন সাক্ষী দেশে না থাকার বিষয়টি আদালতকে জানান এবং সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করার আবেদন করেন। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামির পরীক্ষার সময় থেকেই বাদী তার সঙ্গে বিয়ে ও কাবিননামার দাবি জানিয়ে আসছেন বলে আইনজীবীরা জানান।

শুনানিতে হট্টগোলের অভিযোগ

রোববার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর বক্তব্য শুরু করলে বাদী তার প্রতি উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং হট্টগোল করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, বাদী একাধিকবার তার ওপরও চড়াও হয়েছেন এবং শুনানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন। একপর্যায়ে বিচারকের কাছেও আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে অন্যথায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আককাস সিকদার বলেন, বাদী লিখিত আবেদনেও আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। এমনকি দাবি পূরণ না হলে নিজের এবং তার আগের স্বামীর সন্তানকে নিয়ে আদালতের সামনে আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে মামলার বাদী রুনু আক্তার বলেন, তিনি আল-আমিনের শাস্তি চান না। তাকে স্বামী হিসেবে ফিরে পাওয়ার জন্যই ধর্ষণ মামলা করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি যে কোনোভাবে আল-আমিনকে চাই।’

মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি চলমান রয়েছে। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই শেষ কথা।