রবিবার

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

যশোরে স্কুলছাত্রী হত্যার অভিযোগে ৫ ইসকন সদস্যসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কে এম জারিদুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৯

শেয়ার

যশোরে স্কুলছাত্রী হত্যার অভিযোগে ৫ ইসকন সদস্যসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি সংগৃহীত

যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায় দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিপ্রাকে মারধরের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিহত শিপ্রার ভাই পাপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পালের আদালতে মামলাটি করেন।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনসহ দাখিলের জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন চাঁচড়া রাজবাড়ী এলাকার অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাস (৪০), সাধন অধিকারী (৫৮), রাম অধিকারী (৫৫), অর্জুন দাস, পার্থ দাস, পবিত্র, সঞ্জয় ও রঘু। মামলার এজাহারে আসামিদের ইসকন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিহত শিপ্রা ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আসামি অনুপম রায় অন্যদের সহযোগিতায় তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা তার ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাদী ও তার ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামিরা ছুরি, চাকুসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় বাড়িতে থাকা শিপ্রাকে মারধর ও যৌন হয়রানি করা হয়। তার চিৎকার শুনে বৃদ্ধ মা এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয়।

একপর্যায়ে আসামিরা শিপ্রার মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে শিপ্রাকে মারধরের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে তার ওড়না দিয়ে ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আসামিরা চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে শিপ্রাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁরা তাকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।