রবিবার

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাউফলে চাঁদাবাজির মামলায় দুই সাংবাদিক কারাগারে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২২

শেয়ার

বাউফলে চাঁদাবাজির মামলায় দুই সাংবাদিক কারাগারে
ছবি সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফলে একটি বাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই সাংবাদিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহিদুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এবং মো. রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।

আগাম জামিন শেষে আদালতে হাজির

আদালত সূত্রে জানা যায়, মিসকেস নং ১১৮৯/২৬-এর শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন (৫) জামিনের আবেদন করেন। এর আগে উচ্চ আদালত আসামিদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সেই নির্দেশ অনুযায়ী রবিবার তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিন লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

মামলার এজাহার ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনামুল হক, মো. রিয়াজসহ আরও কয়েকজন বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের একটি বাড়িতে যান।

অভিযোগ করা হয়েছে, তারা নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো এবং ঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী রতন মন্ডলের অভিযোগ, একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা দেন। পরদিন আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

পুরোনো ঘটনাকে সামনে এনে টাকা দাবির অভিযোগ

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে প্রেমের সম্পর্কের কারণে পালিয়ে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই নারী হিন্দু ধর্ম পালন করছেন এবং তাদের সংসারে আট মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পুরোনো ঘটনাকে সামনে এনে অভিযুক্তরা পরিবারটির কাছে টাকা দাবি করেন।

ঘটনার পর রতন মন্ডল ২৮ জুলাই বাউফল থানায় মামলা করেন। মামলায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।

আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার বাদী রতন মন্ডল বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।