মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের গচ্ছিত টাকা নিয়ে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। নিজেদের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা টাকার হিসাব যাচাই এবং আত্মসাতের অভিযোগ জানাতে রোববার সকাল থেকে শ্রীনগর শাখার সামনে ভিড় করেন শত শত গ্রাহক।
সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর রবিবার সকাল থেকেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে গ্রাহকেরা ব্যাংকে আসতে শুরু করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বৈধ প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ দিতে নির্দেশনা দিয়ে ব্যাংকের ফটকে একটি নোটিশ টানিয়ে দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল থেকেই অনেকে আত্মসাত হওয়া আমানত ফেরত পাওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ১৪টি গ্রাহক হিসাব প্রাথমিকভাবে যাচাই করে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার গরমিলের তথ্য পাওয়া যায়। তবে সব হিসাব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত গরমিলের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা সার্কেলের প্রধান কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব ব্যাংকের বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার শরীফ উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষা শেষে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।
এদিকে গ্রাহকদের টাকা জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শরীফ উদ্দিন। অভিযোগে শাখাটির ক্যাশ ইনচার্জ শরীফুজ্জামান সোহাগকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শ্রীনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জানাজানি হলে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ভুক্তভোগী ও উদ্বিগ্ন গ্রাহকেরা জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন:







