সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে জমি দখল ও অবৈধভাবে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ওমর ফারুক নামের এই কর্মচারী রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি নীলফামারীর ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সংযুক্তিতে রয়েছেন। তার বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের চরতিস্তাপাড়া গ্রামে।মৃত আছর আলীর ছেলে তিনি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ দুদকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান,এক সময় অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালাত তার পরিবার। তবে চাকরিতে যোগদানের পর দেড় দশকে তিনি প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। জমি কিনেছেন মা-ভাই বোনসহ নিজের নামেও। বন্ধক নিয়েছেন কয়েক একর জমি। রংপুর শহরেও তার দুইটি জায়গা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে অন্যের জমি দখলেরেও।
তথ্য অনুযায়ী, ওমর ফারুক ২০১১ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার কয়েক বছর পর থেকে নিজের নামে জমি ক্রয়ের কিছু দলিল এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।তার তথ্যমতে ২০১৮ সালে ৬৬ শতক, ১৬ মে ২০২২ সালে ৩৩ শতক, ২০ আগস্ট ২০২৪ সালে ২০ শতক, ১৭ নভেম্বর ২০২৪ সালে ২৮ দশমিক ২৩ শতক এবং ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে ১২ শতক জমি রেজিষ্ট্রেশন করেন। ভাই-বোনের সঙ্গে যৌথভাবে কেনা জমির মধ্যে ১২ মার্চ ২০২৩ সালে ভাই ফজলুল রহমানের সঙ্গে ২০ শতক, ১৬ মে ২০২২ সালে বোন গোলাপির সঙ্গে ১৯ শতক এবং ২৩ মার্চ ২০১৬ সালে মা ফাতেমা বেগমের সঙ্গে ৫০ শতক জমি রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে।
চরতিস্তাপাড়ায় ওমর ফারুকের বাড়িতে গিয়ে জানা ও দেখা যায়, সেখানে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। স্ত্রী সন্তান চারজনসহ মা ও ছোট ভাই নিয়ে তার পরিবার। স্থানীয়দের মতে, বাড়িটি নির্মাণে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে।
পরিবার চালানোসহ ছোট ভাইকে রংপুরে পড়ালেখার খরচ করেও কিভাবে ছোট পদে চাকরি করে এতো জমি জায়গা করা সম্ভব।জমির বাজারদর অনুযায়ী প্রায় দেড়কোটি টাকার সম্পদ ওমর ফারুকের।তার বাবা চাচার কিছুই ছিলনা, এখনো তার কয়েকজন চাচা ভ্যান চালিয়ে সংসার পরিচালনা করছেন।
দেবীগঞ্জের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান সরকার দাবি করেছেন, তার ৩২ শতক পৈতৃক জমি দখল করেছেন ওমর ফারুক। একইভাবে জয়পুরহাটের বাসিন্দা রেহেনা বেগম অভিযোগ করেছেন, তার ২০ শতক জমি দখল করে রাখা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১ জুলাই দিবাগত রাত থেকে ২ জুলাই ভোরের মধ্যে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে তার জমিতে ইট, বালু, সিমেন্ট ও কংক্রিটের পিলার ব্যবহার করে গরুর সেড নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারমুখী আচরণের শিকার হতে হয়েছে।
রেহেনা বেগম বলেন, দেড় বছর আগে হঠাৎ জানতে পারি, আমার ২০ শতক জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। পরে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করি। কিন্তু সেখানে ওমর ফারুক আসেননি। আমার বাড়ি জয়পুরহাটে। স্বামী অসুস্থ থাকায় এত দূরে বারবার যাওয়া সম্ভব হয় না। এই সুযোগে জমিটি দখল করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ওমর ফারুক বলেন,চাকরির পর আমি কিছু জমি ক্রয় করেছি। তবে যতগুলো বলেছেন এতোটা না। মানুষ বললে করার কিছু নাই।
আরও পড়ুন:







