ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২০ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬) আশুগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় লিখিত এজাহার দেয়া হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটির মা তার ছয় মাস বয়সী অসুস্থ সন্তানকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে বাড়ির বাইরে যান। এ সময় শিশুটি সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম শিশুটিকে পানি আনতে বলে। পরে পানি আনার কথা বলে তাকে আন্দিদিল এলাকার হাজী জহির মিয়ার একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই ঘরে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
শিশুটির মা চিকিৎসকের কাছ থেকে ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি অভিযুক্ত জাহিদুলের কাছে মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সে শিশুটিকে হাজী জহির মিয়ার পরিত্যক্ত ঘরের পাশে দেখেছে বলে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ওই ঘরে গিয়ে শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত জাহিদুলকে আটক করে। এ সময় সে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। তবে তার এই কথিত স্বীকারোক্তির বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাইযোগ্য।
পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত ও দাফনসহ পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল), ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে একমাত্র আসামি মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে ও আসামিকে কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে।আর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন:







