নেত্রকোনার মদনে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম জয় নামে এক বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার জয় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তেলুয়ারী এলাকার মো. সবুজ মিয়ার ছেলে। তিনি আঠারবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তাঁকে ছাত্রদল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটির মালিক শামসুল হক চ্যাম্পিয়ন মদনের চানগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন। অসদাচরণ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে মদনের দৌলতপুর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আল আক্কাসের জানাজায় অংশ নিতে যান শামসুল হক চ্যাম্পিয়ন। তিনি তাঁর কালো ও নীল রঙের পালসার ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি কবরস্থানের পাশে রেখে জানাজায় অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে মোটরসাইকেলটি দেখতে না পেয়ে তিনি মদন থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক যুবককে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতে দেখা যায়। ফুটেজে ওই যুবকের পোশাক ও শারীরিক গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্নভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সেখানে থাকা ছবির সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের ব্যক্তির মিল পাওয়া যায়।
এরপর বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তেলুয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাজহারুল ইসলাম জয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দরগাহ রোড এলাকায় একটি চায়ের দোকানের পাশে পরিত্যক্ত স্থান থেকে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফরহাদ আহমেদ বলেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই মাজহারুল ইসলাম জয়কে ছাত্রদল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আঠারবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন।
মদন উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম রসেলও শামসুল হক চ্যাম্পিয়নের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে মাজহারুল ইসলাম জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেয়া তথ্য অনুযায়ী কেন্দুয়া থেকে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ চুরির সঙ্গে জয়সহ একটি চক্র জড়িত। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
আরও পড়ুন:







