নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও এখনো কাঁচা সড়ক, আবার কোথাও এইচবিবি সড়কের ইট উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বর্ষায় কাদায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় বাড়ে ভোগান্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগব্যবস্থার এমন পরিস্থিতি থাকলেও সড়কগুলোর স্থায়ী উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচনের সময় রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
বেহাল এইচবিবি সড়ক
সরেজমিনে দেখা গেছে, মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের সতীহাট বাজারের উত্তর-পশ্চিম কর্ণার থেকে সরকারের ব্রয়লার মোড় হয়ে বিমল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত নির্মিত এইচবিবি সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গেছে। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আবার কিছু জায়গায় ইট না থাকায় সড়কের মাটির অংশ বেরিয়ে পড়েছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ইঁদুরের গর্তে সড়কের কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণেও নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাঁচা সড়কে বর্ষায় দুর্ভোগ
মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের কদমতলী মোড়ের পশ্চিম দিক থেকে গণেশপুর ইউনিয়নের কারিগরপাড়া হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজীর বাড়ি, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বনাথ মণ্ডলের বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে আদিবাসীপাড়া সংলগ্ন বাঁশার পুকুরের মোড় পর্যন্ত সড়কটির বড় একটি অংশ এখনো কাঁচা।
বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়কটি কাদায় একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ওমর ফারুক, রবিউল ইসলাম, বয়েজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বপন জানান, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তারা বলেন, বর্ষায় কাদা ও শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে সড়কগুলো দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। জরুরি প্রয়োজনে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের হয়ে ওঠে।
সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে সড়কগুলোর এমন অবস্থা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর অনেক সময় এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সমস্যায় থাকা সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন সড়ক নির্মাণেরও উদ্যোগ নিতে হবে।
মান্দা উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, পথচারীদের ভোগান্তি নিরসনে ইতোমধ্যে এমপি মহোদয়ের সুপারিশক্রমে ইউনিব্লক রাস্তার জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বাবুল) বলেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তবে এলাকাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় রাস্তা সংস্কারসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
৪৯ (নওগাঁ)-৪ মান্দা আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু জানান, ওই এলাকার মানুষের ভোগান্তি নিরসনে জনস্বার্থে ইতোমধ্যে ইউনিব্লক রাস্তার জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাস্তাগুলোও পাকাকরণ করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের সড়ক দুর্ভোগ নিরসনে এবার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের মাধ্যমে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।
আরও পড়ুন:







