শুক্রবার

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষককে তুলে নিয়ে নির্যাতন: তিন সপ্তাহ পর গ্রেপ্তার দুই

বিবি মরিয়ম, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১

শেয়ার

চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষককে তুলে নিয়ে নির্যাতন: তিন সপ্তাহ পর গ্রেপ্তার দুই
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনার তিন সপ্তাহ পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি হলেন, ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার গুনক ইয়াকুব মিলিটারী বাড়ির আবদুল কাদেরের ছেলে সালাউদ্দিন কাদের ও লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার চরমনষা এলাকার মোতাহের আহমদের ছেলে মনির আহমদ। বর্তমানে সালাউদ্দিন পশ্চিম খুলশীর ৪নং রোডের মোমেন ভিলায় এবং মনির আহমেদ দক্ষিণ খুলশী পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় ১নং রোডে থাকেন। তারা মামলার ৬ ও ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট কলেজ অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে 'বাংলা এডিশন' এ বক্তব্য দেন শিক্ষক মিজানুর রহমান চৌধুরী। এরপর ২৯ আগস্ট এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর জেরে ওইদিন বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাস থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগার অনুসারীরা।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ওই শিক্ষকের কক্ষ তছনছ করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে খুলশী থানাধীন ওয়ারলেস ২ নম্বর লেইনের একটি টর্চার সেলে আটকে রেখে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে ওই শিক্ষকের ডান হাতের আঙুল ভেঙে যায় এবং পিঠ ও হাতে গুরুতর জখম হয়।

এ ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার ও নগরীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বগাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানান, "ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার মূল আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"