ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ ছুটিতে থাকা এক সেনাসদস্যকে আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই মাসের ছুটিতে থাকা সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলামকে ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নে প্রায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয় যুবকরা আটক করেন। পরে তাকে মাতব্বরদের কাছে নেয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে মীমাংসার মাধ্যমে পরিবারের কাছে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় যুবক মো. বিজয় ও সোহরাব জানান, ছুটিতে থাকা সেনাসদস্য জাহিদুলকে ইয়াবাসহ আটকের পর তারা স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বালিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আরজু বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেন৷
এ বিষয়ে আরজু বলেন, জাহিদুলকে মাদকসহ আটকের বিষয়টি তিনি অবগত। ছেলেটি প্রথমবার মাদকসহ ধরা পড়েছিল। প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করলে তার চাকরি চলে যেতে পারে, এ কারণে তাকে পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে কোন আইনের ভিত্তিতে প্রশাসনকে না জানিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এলাকার মুরব্বিদের সহযোগিতা নিয়ে সেনা সদস্য কে ছেড়ে দেন৷
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলহাজ আলী ও একই এলাকার গ্রাম পুলিশ ইউনুসও সেনাসদস্যকে মাদকসহ আটকের বিষয়টি জানেন বলে জানিয়েছেন। তবে ইউপি সদস্য ঢাকায় এবং গ্রাম পুলিশ থানাতে ডিউটির জন্য অবস্থান করায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকসহ কাউকে আটক করার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ মাদকের সাথে জড়িত থাকলে সমাজের অশুভ লক্ষ্মণ বলে মন্তব্য করেন৷ মাদকসহ আটকের পর ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। মাদকসহ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হলে কীভাবে ‘মাদকমুক্ত বালিয়া’ গড়া সম্ভব এমন প্রশ্ন তুলে আক্ষেপ করেন তারা।
জাহিদুল ইসলাম বালিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বালিয়া সরকার পাড়া এলাকার রতন মিয়ার ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা৷
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি৷ এসময় পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হরে তার স্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি কর্মস্থলে চলে গেছেন। তবে জাহিদুলের বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে শ্বশুরবাড়িতে গেছে। বাবা ও স্ত্রীর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
আইনজীবীর মতে, ১০০ পিস ইয়াবাসহ কাউকে আটক করার পর স্থানীয় মাতব্বরদের শালিশে ছেড়ে দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি ব্যক্তি কাউকে আটক করলে তাকে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হয়। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ইয়াবাসহ মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অপরাধের আলামত গোপন বা নষ্ট করে কাউকে আইনের হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে কাজ করা হয়ে থাকলে দণ্ডবিধির ২০১ ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।
কাওয়ালিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান,মাদকসহ আটক করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত নই,তবে মাদকসহ আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কে না জানানো অপরাধ৷ কোন গণমাধ্যমে বা অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে দেখব৷
আরও পড়ুন:







