সরকারি সেবা নিতে এসে পদে পদে হয়রানি আর চরম ভোগান্তি। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এটিই এখন নিত্যদিনের চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, এই অফিসে ঘুষের টাকা ছাড়া নড়ে না কোনো ফাইল। দুর্নীতি আর অনিয়মের যেন এক অঘোষিত রাজত্ব কায়েম করেছেন এখানকার কর্মকর্তারা।
ঘুষ দাবির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
উপজেলার সিংগাইর গ্রামের ভুক্তভোগী রায়হান আহমেদ পৈতৃক মাত্র ৫ শতাংশ জমির নামজারি করতে এসে পড়েন চরম বিপাকে। ভূমি অফিসের নায়েব গোবিন্দ গোহকে না পেয়ে অফিস সহকারী তৌফিকুল ইসলাম, ভুক্তভোগীকে ডেকে নেন পাশের একটি মসজিদে। সেখানে বিষয়টি গোপন রাখার শর্তে সরাসরি ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। বিনিময়ে ভুক্তভোগীর কাজ করে দিবেন।
ভুক্তভোগীর থেকে সরকারি ওই কর্মচারীর, ঘুষ দাবির চাঞ্চল্যকর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড, হাতে এসেছে বাংলা এডিশনের।
অনিয়ম ও অনুপস্থিতির অভিযোগ
কেবল ঘুষ দাবিই নয়, অফিস সহকারী তৌফিকুল ও নায়েব গোবিন্দ গোহ’র বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তারা নিয়মিত অফিসে আসেন না। কোনো নিয়ম বা সময়সূচির তোয়াক্কা না করে, মন চাইলে অফিসে আসেন, না চাইলে অনুপস্থিত থাকেন।
অভিযুক্তদের অস্বীকৃতি
তবে, ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বল্লা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তৌফিকুল ইসলাম।
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে নায়েব গোবিন্দ গোহ জানান, তিনি নিয়মিতই অফিস করেন। দুটি ভূমি অফিসের দায়িত্বে থাকার কারণে কিছুটা ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে, ঘুষ দাবির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ
অফিস কর্মকর্তাদের এমন বেপরোয়া কাণ্ডে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ঘুষ দাবি, অনিয়ম ও হয়রানির বিচার চেয়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক বরাবরও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রায়হান আহমেদ। প্রতিকার পেতে দুদক কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি-র বক্তব্য জানতে একাধিকবার, যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলের সেবা খাতে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতি বন্ধে, এখন প্রয়োজন কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। প্রশাসন ও দুদক অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কবে নাগাদ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:







