বুধবার

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘সন্ত্রাসী’আখ্যা দিয়েছেন, অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার: ইরানের প্রেসিডেন্ট আওয়ামী নেতাদের লাগামহীন বক্তব্য এখন ট্রলের উপাদান হজের টাকা জমা নিতে আগামী শুক্র-শনিবার সারাদেশে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প ব্যবস্থায় এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ইউপি নির্বাচনে জামানত-ভোটের ব্যয় বাড়লো নির্বাচন কমিশন গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত তিন, ট্রাকচালক আটক কুয়াকাটায় ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড পাচারের ঝুঁকিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষক হাবিবুর হত্যা, গ্রেপ্তার দুই

মোছাব্বির হাসান সজীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫১

শেয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষক হাবিবুর হত্যা, গ্রেপ্তার দুই
ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কৃষক হাবিবুর রহমান (৪০) হত্যা মামলায় তদন্তে পাওয়া দুই অভিযুক্তকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও এসআরবি-১৪-এর যৌথ আভিযানিক দল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নগুয়া বটতলা মোড় ও নগুয়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার তিলিখাই গ্রামের মৃত লতিফ মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া (৩৯) এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে মো. মোতালেব মিয়া (৬০)।

মামলা ও যৌথ অভিযান

এসআরবি-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাসিরনগর থানার মামলা নম্বর-১৪, তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬; দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় তদন্তে পাওয়া অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এসআরবি-১৪, সিপিএসসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন।

বুধবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানার নগুয়া বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিল্লাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর রাত ২টার দিকে নগুয়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মোতালেব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মহাখালী যাওয়ার পর নিখোঁজ

পুলিশ ও এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, নিহত হাবিবুর রহমান নাসিরনগর উপজেলার কালিউতা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একই গ্রামের বশির মিয়ার মাধ্যমে তিনি বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছিলেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার মহাখালী এলাকায় অবস্থিত মারজান টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে এক দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

এরপর ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাবিবুরের ফুফু সজিনা বেগম তার মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। ফোনটি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ধরেন। তিনি জানান, হাবিবুর ঢাকার মহাখালী হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসার জন্য ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন।

পরিবারের সদস্যরা হাবিবুরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি কথা বলতে পারবেন না। একই দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে আবার ফোন করা হলে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। হাবিবুরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এরপর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

গাঙ্গের পানিতে মরদেহ উদ্ধার

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবার জানতে পারে, গত ৭ সেপ্টেম্বর নাসিরনগর থানার হরিপুর এলাকায় সততা ইটভাটার সামনে গাঙ্গের পানিতে অজ্ঞাত এক পুরুষের পচা ও অর্ধগলিত মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে হাবিবুরের স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতাল মর্গে গিয়ে মরদেহটি দেখে সেটি তার স্বামী হাবিবুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।

পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাবিবুরকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে গাঙ্গের পানিতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় মামলা করেন।

এর আগে গ্রেপ্তার আরও দুই

মামলার পর এসআরবি-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এসআরবি জানায়, এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর একই হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া আরও দুই অভিযুক্তকে এসআরবি-৯ ও এসআরবি-১৪-এর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৯।

এসআরবি-৯ জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।