হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদায় পরিণত হওয়ায় পাঁচ গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও বয়স্কদের যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিহারীপুর, খোজারগাঁও, নিজগাঁও, শাহপুর ও ভাদেশ্বর গ্রামের মানুষ নিয়মিত এই সড়কটি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া মিরপুর ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত কাদায় পরিণত হওয়ায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা। বৃষ্টির সময় সড়কটি প্রায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেয়াতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা টিপু মিয়া বলেন, চারদিকে উন্নয়ন হলেও বিহারীপুর সড়কের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত সড়কটি সংস্কার বা নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা শুভ মিয়া বলেন, রোগীদের জেলা সদরে নিতে হলে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে রাতে কাদামাখা সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেনা আক্তার বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শ্রী কুমার কৈরি বলেন, সড়কটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, বিহারীপুর সড়কের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু করা হোক।
আরও পড়ুন:







