মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

এভিয়েশনের জায়গা দখল করে মন্দির নির্মাণ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৫

আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৫

শেয়ার

এভিয়েশনের জায়গা দখল করে মন্দির নির্মাণ
ছবি বাংলা এডিশন

রাজধানীর ঈশাল কলোনি সিভিল এভিয়েশন কোয়ার্টার। এখানকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির ঘিরেই এখন দানা বেঁধেছে নানা প্রশ্ন আর রহস্য। মন্দিরটি আসলে কার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত? সিভিল এভিয়েশনের বৈধ বরাদ্দে? নাকি প্রভাব খাটিয়ে দখল করা জায়গায়?

ঈশাল কলোনিতে রয়েছে প্রায় ১৬৮টি কোয়ার্টার। তারমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সংখ্যা মাত্র ৮ থেকে ১০টি। সিভিল এভিয়েশনের এই সংরক্ষিত আবাসিক এলাকায়, এত অল্পসংখ্যক পরিবারের জন্য মন্দির নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে, এখন প্রশ্ন তুলছে স্থানীয়রা।

মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি

তবে, মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি ভিন্ন। তারা বলছে, এটি নতুন কোনো স্থাপনা নয়; প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত। তাদের ভাষ্যমতে, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষই মন্দিরের জন্য প্রায় ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ দিয়েছে তাদের। স্থানীয় ধর্মাবলম্বীদের তথ্যমতে, এই স্থানটিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি মন্দির রয়েছে। বর্তমানে পূর্বের তুলনায় মন্দিরটির কার্যক্রম, পরিধি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ

কিন্তু, কলোনিতে বসবাসকারী মুসলিম বাসিন্দারা দিচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য। তাদের অভিযোগ, মন্দিরের জন্য সিভিল এভিয়েশনের আনুষ্ঠানিক কোনো বরাদ্দ নেই। বরং, প্রভাবশালী কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে মন্দিরের নামে, প্রায় দেড় বিঘা জায়গা দখল করা হয়েছে। আর এই কার্যক্রম চলছে মূলত গত, কয়েক বছর ধরে। বিতর্ক শুধু জমির মালিকানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। আবাসিক এই কোয়ার্টার মন্দিরে বহিরাগতদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি অন্যান্য বাসিন্দাদের। স্থানীয়রা আরও জানায়, কাওলা এলাকায় সিভিল এভিয়েশনের অর্থায়নেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বড় মন্দির রয়েছে। ফলে, একই সংস্থার কলোনিতে মাত্র কয়েকটি পরিবারের জন্য আবারও মন্দির নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সিভিল এভিয়েশনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে, সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বরাদ্দকৃত মূল জায়গা আর বর্তমান স্থান এক নয়, মন্দির সরিয়ে নিতে বারবার বলা হলেও তা মানা হয়নি; ফলে যেকোনো সময় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

সরকারি আবাসিক এলাকার জায়গায় যদি কোনো বরাদ্দ না-ই থাকে, তাহলে এই স্থাপনা গড়ে উঠল কীভাবে? এখন সবার নজর সিভিল এভিয়েশনের ভূমি ও সম্পত্তির নথির দিকে। রাধা গোবিন্দ মন্দিরের এই জায়গাটি কি বৈধ বরাদ্দের, নাকি পুরোটাই দখলদারিত্ব? নথিপত্রের সঠিক তদন্তই পারে ঈশাল কলোনির এই রহস্যের জট খুলতে।



আরও পড়ুন: