মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৮ ঘণ্টায় দুই শিশুসহ তিন মরদেহ উদ্ধার

মোছাব্বির হাসান সজীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৮

শেয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৮ ঘণ্টায় দুই শিশুসহ তিন মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই দিনে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়ায় সীমান্তের ভারতীয় অংশে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ পাওয়ার পর সেটি বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরদিন নবীনগরে নিখোঁজের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর সাত বছরের এক মাদরাসাছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ এবং নাসিরনগরে নিখোঁজের একদিন পর হাত-মুখ স্কচটেপে প্যাঁচানো এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার ছেলে মো. শাকিল (১৪) শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় অংশের লংকামোড়া এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।

মরদেহটি ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বিএসএফ মরদেহটি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তবে শাকিল কীভাবে সীমান্তের ওই এলাকায় গেল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর পরদিন, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নবীনগরের বিদ্যাকুট ইউনিয়নে নিখোঁজের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর মিম (৭) নামে এক মাদরাসাছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিদ্যাকুট গ্রামের একটি পুকুরপাড়সংলগ্ন ঝোপ থেকে বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মিম। দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা ঝোপের মধ্যে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

একই দিন নাসিরনগরের কলেজ মোড় এলাকার একটি কাশবন থেকে আরজান মিয়া (১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে এবং পেশায় অটোরিক্সাচালক। পরিবারের দাবি, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পুলিশ জানায়, আরজানের হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

দুই দিনে পৃথক তিন ঘটনায় দুই শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনাগুলো পৃথক এবং প্রতিটির মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। আখাউয়ার শিশুর মৃত্যুর কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। নবীনগর ও নাসিরনগরের ঘটনায় ময়নাতদন্ত ও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।