সোমবার

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁওয়ে মিড-ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী হাসপাতালে

শরিফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৭

শেয়ার

ঠাকুরগাঁওয়ে মিড-ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী হাসপাতালে
ছবি সংগৃহীত

শ্রেণিকক্ষে মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে দেওয়া প্যাকেটজাত দুধ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রয়েছে। পেটব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা দুধ পান করার পরপরই কয়েকজনের পেটব্যথা শুরু হয়। পরে একে একে আরও কয়েকজন বমি করতে শুরু করে। কেউ কেউ বিদ্যালয়ের ভেতরেই বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে এসে সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

দুধের স্বাদ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

বিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ দেওয়া হয়। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুধ পান করার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, দুধের স্বাদ তিতা ছিল। দুধ পান করার পরপরই তাদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, দুধ খাওয়ার পর থেকেই তাদের পেটব্যথা শুরু হয় এবং অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়েই বমি করে। দুধটি তিতা লাগছিল এবং নষ্ট হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছিল।

আরেক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, দুধের স্বাদ ভালো না লাগার বিষয়টি তারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানিয়েছিল। এরপরও দুধ খেতে বলা হয়। দুধ পান করার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি অর্ধশত শিক্ষার্থী

অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানানো হয়। পরে অভিভাবকেরা সন্তানদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকেই বমি করেছে এবং কয়েকজনের পেটের পীড়া রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের তদন্তের দাবি

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, শিশুদের নষ্ট দুধ দেওয়া হয়েছিল। এর কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন বলেন, শিক্ষার্থীরা দুধ খাওয়ার সময় এর স্বাদ টক লাগার কথা জানায়। পরে প্যাকেট খুলে দেখা যায়, দুধ নষ্ট হয়ে দইয়ের মতো হয়ে গেছে। তবে নিষেধ করার আগেই অনেক শিক্ষার্থী দুধ পান করে ফেলে।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ে মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছুটি হয়ে যাওয়ায় তারা এ ঘটনায় আক্রান্ত হয়নি। দুপুরে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুধ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফি চৌধুরী বলেন, প্যাকেটের গায়ে দুধের মেয়াদ ঠিক ছিল। তবে ভেতরের দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না। দুধ পান করে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

সরবরাহ করা দুধ খতিয়ে দেখার কথা কর্তৃপক্ষের

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় খাবার বিতরণের দায়িত্বে থাকা আবু হেলাল জানান, ওই বিদ্যালয়ে ১২২টি প্যাকেট দুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পারেন। তবে ঠিক কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। সরবরাহ করা দুধ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনসহ তারা সার্বিকভাবে পরিস্থিতি তদারকি করছেন।