বগুড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পা হারিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক কলেজছাত্র। পরিবারের অভিযোগ, শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় তাঁর বাঁ পায়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি।
পা হারানো ওই শিক্ষার্থীর নাম ইশতিয়াক জামান ইরাম। তিনি বগুড়া সরকারি বাণিজ্যিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহরের রহমাননগর এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে বগুড়া শহরের বউবাজার এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন ইরাম। এতে তাঁর বাঁ পা গুরুতরভাবে আহত ও ভেঙে যায়। পরে বন্ধুরা তাঁকে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
ইরামের বাবা শাহাদৎ জামান মজনুরের ভাষ্য, হাসপাতালে নেয়ার পর এক্স-রে করে চিকিৎসকেরা হাঁটুর জোড় সরে যাওয়া ও পায়ে ফ্র্যাকচারের কথা জানান। পরে পা প্লাস্টার করে তাঁকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
তাঁর অভিযোগ, বুধবার রাতে ভর্তির পর শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক ইরামকে দেখতে আসেননি। এ সময় নার্সরা দেখাশোনা করেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তখন ইরাম জানান, তিনি বাঁ পায়ের আঙুল নাড়াতে পারছেন না। এরপর তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
শাহাদৎ জামান বলেন, শুক্রবার রাতেই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। শনিবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করার পর চিকিৎসকেরা জানান, পায়ের একটি নার্ভ ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেখানে পচন ধরেছে। শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়।
ছেলের পা হারানোর জন্য শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলাকে দায়ী করছেন ইরামের বাবা। তিনি বলেন, ছেলের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি একই ঘটনায় তাঁর চার বন্ধুকে কারাগারে যেতে হওয়ায় পরিবারটি আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইরামকে শজিমেক হাসপাতালে নেয়ার সময় ট্রলিতে করে নেয়ার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করাকে কেন্দ্র করে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ট্রলিম্যানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার আনসার সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় ইরামের চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই-মুর্শেদ বলেন, ইরাম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরপরই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়েছে কি না, তা অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বললে বিস্তারিত জানা যাবে।
অন্যদিকে, ওই চার শিক্ষার্থীর জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁদের জামিনের আবেদন করা হলেও শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন বিচারক।
একটি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের অভিযোগ, এরপর ঢাকায় গিয়ে অঙ্গহানির ঘটনা—সব মিলিয়ে ইরামের পরিবার এখন চিকিৎসাব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে একসঙ্গে দুই সংকটের মুখোমুখি।
আরও পড়ুন:







