সোমবার

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

মুক্তাগাছা থানায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

শফিক সরকার,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২১

শেয়ার

মুক্তাগাছা থানায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে
ছবি: বাংলা এডিশন

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির পর লোকজন নিয়ে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুলের বিরুদ্ধে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম।

থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুল থানায় গিয়ে সরাসরি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রবেশ করতে চান। এ সময় থানায় কর্মকর্তাদের একটি জরুরি বৈঠক চলছিল। কর্তব্যরত প্রহরী কনস্টেবল মো. বকুল মিয়া তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার অনুরোধ করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টুটুল কনস্টেবল বকুল মিয়ার সঙ্গে উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। হট্টগোলের শব্দ পেয়ে ওসি কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গেও টুটুলের বাকবিতণ্ডা হয় বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

পরে থানায় উপস্থিত যুবদল নেতা সুমন মিয়াসহ কয়েকজন তাকে বুঝিয়ে থানার বাইরে নিয়ে যান।

থানা সূত্রের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে আরিফ রব্বানী টুটুলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুনরায় থানার সামনে আসে। একপর্যায়ে তারা থানার প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় থানার প্রধান ফটকের পাশে থাকা ট্রাফিক বক্সের দুই পাশের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং গেটের রড বাঁকিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভাঙচুরের শব্দ শুনে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, পুরো ঘটনা আমরা শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। এ ব্যাপারে মিটিং ডেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।