সরকারী প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতে অভিনব প্রতারণার কৌশল করার অভিযোগ উঠেছে ভোলা সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
২০২৫/২৬ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩০ মার্চ ২৬ তারিখে কার্য সমাপ্তি দেখিয়ে ১লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তলন করেন ঐ শিক্ষক। তবে তিনি দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রঃবিঃ রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে প্রকল্পের বরাদ্দ না নিয়ে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে চরসীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে এ অর্থ বরাদ্দ গ্রহণ করেন। প্রকল্পের বরাদ্দ ১টাকাও ঐ বিদ্যালয়ে কাজ না করে আত্মসাৎ করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শিক্ষক মাকসুদুর রহমান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানাযায় ২০২৫/২৬ অর্থ বছরে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চরসীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের ১৪০০০০/ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
উক্ত প্রকল্পের কার্য বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান ও সেক্রেটারি একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাহিদ মাহমুদ।
সরেজমিনে দেখা যায় দুটি বিদ্যালয়ের কোনটিতেই এক টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ঐ প্রকল্প কমিটির সেক্রেটারি রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাহিদ মাহমুদ কে কল করে কথা বলার সুযোগ হবে কিনা জানতে চাইলে প্রথমে কথা বলার সময় হবে জানিয়ে প্রকল্পের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ব্যাস্ততা দেখিয়ে লাইনচ্যুত করে দেন শিক্ষক নাহিদ।
উক্ত প্রকল্পের বিষয়ে চরসীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দেয়া অর্থ স্কুলের কাজে ১ টাকা ব্যায় না করে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন নাকি কোথায় ব্যায় করা হয়েছে জানা নেই বললেন প্রধান শিক্ষক আবুল এসেম রিয়াজ।
অভিযুক্ত রামদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাকসুদুর রহমান বলেন আমি প্রকল্পের সভাপতি এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ আমার ব্যাংক হিসেবে নিয়েছি, আমার স্কুলে ফার্নিচার মেরামতের কিছু কাজ করেছি।
আর চরসীতারাম স্কুলে যদি কাজ না করে থাকি তাহলে কাজ করে দিবো অন্যথায় রবিবার ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে টাকা দিয়ে দিবো সে স্কুলের কাজ করে নিবে।
আপনাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ৩০ মার্চ ২০২৬ টাকা নিয়েছেন অর্থাৎ আরো ৬ মাস আগে এখনো কাজ বাস্তবায়ন না করে কাজের টাকা দিবেন কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমি এত কথা ফোনে বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে আজ রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর চরসীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক মাকসুদর রহমান,নাহিদ মাহমুদ ও মেহেদী হাসাকে তার স্কুলের নামে বরাদ্দ কৃত সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে প্রকল্পের অর্থ বিষয়ে পুরোই অস্বীকার করেন মাকসুদুর রহমান।
পরে চরসীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলতেই মাকসুদুর রহমান মুঠোফোনে অদৃশ্য কোন এক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করে দেয়ার অনুরোধ জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কঃকঃ মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন গত ২৫/২৬ এর উপজেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্দের এই কাজটি দেখবাল করার দায়িত্ব আমার ছিলো, তবে সংশ্লিষ্ট ইউপি প্রশাসক প্রকল্পের কার্য সমাপ্তির প্রত্যায়ন দিয়েছে তিনি তো প্রকল্পের কাজ যাচাই করে রিপোর্ট দিয়ে থাকার কথা। তবুও বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নিবো।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বজল কুমার দাস কে একাধিক বার কল করারর পরেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:







