অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক থেকে অবরোধ শেষে ফিরে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে মহাসড়কে।
রবিবার দুপুরে মহাসড়ক ত্যাগ করতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে আসেন। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ফ্যাস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন।
এ সময় তাদেরকে ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, খুনিরে ফাঁসি দে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মাত্র ১৩ বছরের একটা ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আমরা খুবই আশাহত। পুলিশ যথাসময়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পুলিশ দাবি করছে, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করছে না। এখন বলতেছে সংবাদ সম্মেলন করবে। আমরা চাই অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক। সেটা না করা হলে কঠোর আন্দোলন হবে।
মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দেড় ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখার ফলে মহাসড়কের দুই লেনে অন্তত ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। যাতে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন যাত্রী ও চালকরা।
ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিক্ষোভ শেষ করে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে চলে গেছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাদের বিক্ষোভ শেষ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান সে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। বিকেলে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করে এসআরবি। ধারণা করা হচ্ছে আইফোনটি নেয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার বিষয়ে রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জেলা পুলিশ। সকল প্রক্রিয়া শেষে রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে অপ্রতিমকে বাড়ির পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন:







