রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

সরকারি চাকরি পাওয়ার পরই স্বামীকে তালাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৮

শেয়ার

সরকারি চাকরি পাওয়ার পরই স্বামীকে তালাক
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী স্বামীর আর্থিক সহায়তায় পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রায় সাত মাসের মাথায় তাকে তালাক দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী সাইফুল ইসলাম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

সাইফুল ইসলাম চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিকভাবে ২০১৬ সালে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের প্রায় চার মাস পর সাইফুল কর্মস্থল মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর কয়েক বছর দেশে আসা যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সংসার চলছিল। একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উচ্চশিক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করলে তার স্বামী পড়াশোনার খরচ বহন করতে শুরু করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় তার স্ত্রীকে ঢাকাতে নিয়ে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৪ বছর ঢাকায় থেকে কোচিং করার পর ২ জানুয়ারি ২০২৬ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান জান্নাতুল ফেরদাউস।

চাকরি পাওয়ার পর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সাইফুল ইসলামের কাছে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তিনি কাউকে না জানিয়ে ১ জুলাই দেশে ফিরে এসে সরাসরি স্ত্রীর অফিসে গিয়ে হাজির হন। স্ত্রীর সাথে দেখা হওয়ার পর তাকে অপেক্ষায় রেখে জান্নাতুল ফেরদাউস চলে যায়।

সাইফুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। বিষয়টি নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে জানালে পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সাইফুলের বাড়িতে স্ত্রীর দেওয়া তালাকের নোটিশ পৌঁছে। উপায়ন্ত না পেয়ে সাইফুল তার গচ্ছিত অর্থ ও সম্পদ এবং এর প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

সাইফুল জানায়, স্ত্রীর আবদার রক্ষার্থে তিনি লেখাপড়াসহ সকল ধরনের সহযোগিতা করেছেন। তার উপার্জিত অর্থের অধিকাংশ তার স্ত্রীর পেছনে ব্যয় করেছেন। তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে ফিরে এসেছেন।

এবিষয়ে জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ভাই ফয়সাল আহমেদ জানান, আমার বোনের অভিযোগ সাইফুল বিদেশে থাকাকালে তার খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণে জান্নাত তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে জান্নাতের লেখাপড়া, কোচিং, ঢাকায় বাসাভাড়া এবং থাকা-খাওয়ার খরচ সাইফুলের টাকায় করেছে।