রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

শ্রীবরদীতে পাচারের সময় ২৫ বস্তা সরকারি ইউরিয়া সার জব্দ, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

‎জান্নাতুল বাকী,শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮

শেয়ার

শ্রীবরদীতে পাচারের সময় ২৫ বস্তা সরকারি ইউরিয়া সার জব্দ, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ছবি: বাংলা এডিশন

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ঝগড়ারচর বাজার এলাকায় পাচারের সময় ২৫ বস্তা সরকারি ইউরিয়া সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই সার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‎শনিবার রাতে দিকে ঝগড়ারচর উত্তর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভেলুয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন ডিলার নিয়োগের আবেদনকারী মুরাদুজ্জামানের জামাতা সারোয়ার জাহান অনিকের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স থেকে ১৫ বস্তা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০ বস্তা—মোট ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয়।

‎ক্রেতাদের দাবি, তারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের সায়দাবাজ এলাকার কৃষক। স্থানীয় ডিলার পয়েন্টে সার না পাওয়ার কথা জানানো হলে তারা শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর বাজার থেকে সার সংগ্রহ করতে আসেন। পরে প্রতি বস্তা সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে সার কেনেন বলে তারা জানান।

‎সারগুলো বটবটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করেন।

‎এ ঘটনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্সকে ১৫ হাজার টাকা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

‎মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন শ্রীবরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব-উল-আহসান। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ ও শ্রীবরদী থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‎এদিকে নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভেলুয়া ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগের আবেদনকারীদের মধ্যে মুরাদুজ্জামান ও তার জামাতা সারোয়ার জাহান অনিকও রয়েছেন। তারা ডিলারশিপ পেতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের দাবি করেছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

‎তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ডিলারশিপ পাওয়ার আগেই যদি সরকারি সার বিতরণ নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে ডিলারশিপ পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

‎তবে সার পাচারের অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধি এবং ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রশাসনের তদন্তে কীভাবে উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



আরও পড়ুন: