রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল

কুবি,প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৩

শেয়ার

অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল
ছবি: বাংলা এডিশন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মানুষের ঢল নামে। এ সময় স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।

জানাজায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, “অপ্রতিমের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। অপ্রতিম হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিচার চাই, সন্তানকে তো আর পাব না। বিচার হবে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই প্রশ্ন—ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?”

জানাজায় অপ্রতিমের বাবা বলেন, “আমার একটাই ছেলে। আমার ছেলে কুমিল্লার মানুষের ভালোবাসায় বড় হয়েছে। ওর বাবা হিসেবে আপনাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ও যদি কোনো আচরণে আপনাদের কষ্ট দিয়ে থাকে, আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। ওর জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার একমাত্র সন্তান ছোটবেলা থেকেই আপনাদের ভালোবাসায় বড় হয়েছে। আপনারা ওকে আপনাদের সন্তানের মতো ভালোবেসেছেন। আজ আমি আপনাদের কাছে ওর জন্য দোয়া চাই।”

ড. নাহিদা বেগমের সহকর্মী অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকি বলেন, “আমি তার প্রতিবেশী মামা হই। আপনারা তাকে চিনতেন। ক্যাম্পাসের ভেতরে-বাইরে অনেকেই তাকে দেখেছেন। আপনারা এই নিষ্পাপ শিশুটিকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তার জন্য দোয়া করবেন।”

জানাজা শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কুমিল্লার গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে সকাল ১১টায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাত ৮টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।



আরও পড়ুন: