সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ এলাকায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুস সবুর নামে এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আব্দুস সবুরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তিনি সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সয়দাবাদ ইউনিয়নের সারটিয়া গ্রামের মো. তারার ছেলে হাসান, একই গ্রামের মজনুর ছেলে পারভেজ ও আলামিন এবং দুখিয়াবাড়ি গ্রামের আমজাদের ছেলে হাসানসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুস সবুরের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
জামায়াতের পক্ষের বক্তব্য
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে দুপুরে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। লংমার্চ চলে যাওয়ার পর তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় রফিক সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুস সবুরের ওপর হামলা চালান। নুরনবী নামে অপর এক জামায়াত নেতাকেও কিল-ঘুষি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, লংমার্চের আগেও রফিক সরকারের নেতৃত্বে মহড়া দেওয়া হয়েছিল। জামায়াতের লোকজন বেশি থাকায় তারা চলে যায়। পরে আব্দুস সবুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁর পা, হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ
অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, দুপুরের দিকে আল-আমিন নামে বিএনপির এক কর্মী মোহনপুরের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। তখন জামায়াতের নেতারা তাঁর ভিডিও করছিলেন। পরে জামায়াতের আমির সিরাজুল তাঁকে কলার ধরে ঘোরান এবং ছাতা দিয়ে মারধর করেন। তাঁকে কিল-ঘুষিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। ওই ঘটনার ভিডিও জামায়াতের লোকজনই প্রকাশ করেছে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, পরে স্থানীয় কিছু লোক আব্দুস সবুরকে ধরে কিল-ঘুষি দেয়। কাঠের চেলা দিয়ে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে, যার কারণে শরীরে কেটে যাওয়ার মতো আঘাত হয়েছে। আব্দুস সবুরকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার সূত্রপাত জামায়াতের লোকজনের কর্মকাণ্ড থেকেই।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:







