দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা।এখনো আওয়ামীলীগ সিন্ডিকেটের দখলে বাংলাবান্ধা লেবার হ্যান্ডেলিং এটিআই নামের প্রতিষ্ঠানটি।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চগড়ে দুর্নীতি-অনিয়মের বড় বড় ঘটনার মধ্যে স্থলবন্দরে লেবার হ্যান্ডেলিং একটি।
আমদানি পণ্যের লোড বাবদ ৭৬ দশমিক ৮৩ টাকা এবং আনলোড বাবদ ৭৬ দশমিক ৮৩ টাকা প্রতিটনে নেয়া হলেও কোন প্রকার কাজ না করে পুরো টাকা হাতিয়ে নেয় বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট ও লেবার হ্যান্ডেলিং কোম্পানি। লেবার হ্যান্ডেলিং আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর বুড়িমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল হোসেন।
আমদানিকারকদের অভিযোগ,সেবা না দিয়েও অর্থ আদায় করছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। লোড- আনলোড এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতিটনে ১৯১ টাকা আদায় করা হলেও লোড করে দেয়া হয়না।এতে পুনরায় আরো লোডিং খরচ হয়।তাতে খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়।দিন দিন ব্যবসায় লোকসানে পরে স্থলবন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আমদানিকারকের অনেকে।
জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাতের আধারে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আফতাহী ট্রেড বা এটিআই নামক এই অখ্যাত কোম্পানি টিকে লেবার হ্যান্ডেলিং কাজে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে।অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেও কোন ফলাফল আসেনি, কারন এই এটিআই এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা লুটেরাচক্র। ব্যবসায়ীদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও রহস্য জনক কারনে শক্ত অবস্থানে তাদের দেখা যায়নি।বছরের পর বছর এই লুটেরাচক্রকে রাতের আধাঁরে ঠিকাদারি নিয়োগ দিচ্ছে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।অভিযোগ রয়েছে আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, সিএনএফ সদস্য ও কয়েকজন ব্যবসায়ী এ সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল।এখন নতুন করে বিএনপির নেতাকর্মীরা জরিয়ে পড়েছে এ চক্রে।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি আকতারুল ইসলাম বলেন, আমদানীকারকদের কাছে লোড আনলোডের টাকা নিয়ে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে আমাদেরকে আনলোড বাবদ ৪২-৪৩ টাকা দেওয়া হয়।লোড না করেও বাকী টাকা এটিআই ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নেয়।
আমদানিকারক আলাউদ্দিন বাবু বলেন, লোড আনলোডের টাকা নেয় কিন্তু কোন সেবা না দিয়ে কৌশলে প্রতিটনে ৩০ টাকা ফেরত দেয়।
এছাড়াও বন্দরে পাথর লোড করতে পেলোডার গাড়ি না থাকায় সময় ও অর্থ বেশি লাগছে।এতে লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়। অনেকে ব্যবসা গুছিয়ে চলে গেছেন।একই কথা বলছিলেন সাইদুর রহমানসহ অনেকে।
লেবার হ্যান্ডেলিং ঠিকাদারি কোম্পানি আফতাহী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বাবুল হোসেনকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন,আমরা লোড করে দিতে চাই কিন্তু ব্যবসায়ীরা নেয়না।গাড়ি আনে লোড করে নিতে তাদের খরচ বেশি হবে ।লোডিং বাবদ আমদানিকারকদের ৩২ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে বাকী ৪৪ টাকা ৮৩ পয়সা কোথায় যায় তার হিসাব দিতে নারাজ এ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন:







