শনিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ কূপের আনুষ্ঠানিক গ্যাস উৎপাদন শুরু

মোছাব্বির হাসান সজীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৭

শেয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ কূপের আনুষ্ঠানিক গ্যাস উৎপাদন শুরু
ছবি: বাংলা এডিশন

দেশের গ্যাস সরবরাহে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে যুক্ত হলো আরও একটি উৎপাদনশীল কূপ। তিতাস লোকেশন-সি এলাকায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

শনিবার দুপুরে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (পেট্রোবাংলার একটি কোম্পানি) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কূপটির খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

প্রায় ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খননের পর কূপটিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষা শেষে গত ১৯ জুন থেকে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও সরবরাহের সময় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে তিতাস-২৮ নম্বর কূপের দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের অবদান আরও বাড়বে। নতুন এই কূপ দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের নতুন এই কূপের উৎপাদন শুরু হওয়াকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।