শনিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাতের আঁধারে আগুন, স্বামীর ভিটায় নিঃস্ব বিধবা প্রণতি

উপজেলা প্রতিনিধি, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৭

শেয়ার

রাতের আঁধারে আগুন, স্বামীর ভিটায় নিঃস্ব বিধবা প্রণতি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক বিধবার বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুনে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এর আগে একই বিরোধের জেরে পরিবারের লাগানো গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও আট দিনেও ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্তে যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাছড়া এলাকার ‘দুলালের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত স্থানে। ভুক্তভোগী প্রণতি রাণী দাশ রায় (৬৮) স্বামী অমরন্দু দাশ রায় ওরফে দুলালের মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ভিটায় বসবাস করে আসছেন। অমরন্দু দাশ রায় ২০১৫ সালে স্ত্রী ও তিন কন্যা রেখে মারা যান।

প্রণতি রাণী দাশের অভিযোগ, তার স্বামীর নামে তফসিলভুক্ত জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মিরসরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে চোটন কর্মকার (৩৭), মো. সোহেল, আজিম উদ্দিন ও আজাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তারা সংঘবদ্ধভাবে তার লাগানো গাছপালা জোরপূর্বক কেটে নিয়ে গেছে।

তবে অভিযোগ দেওয়ার পর আট দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেনি কিংবা কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ প্রণতি রাণীর।

এর মধ্যে গতকাল রাত আনুমানিক ২টার দিকে তার বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। স্বামীর ভিটায় বসবাসের একমাত্র আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন ওই বৃদ্ধা।

প্রণতি রাণী দাশ বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছেন ২০১৫ সালে। তিন মেয়েকে নিয়ে এত বছর ধরে স্বামীর ভিটায় বসবাস করছি। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ বারবার মীমাংসা হলেও তারা মানে না। আদালত রায় দিয়েছে। তারা গায়ের জোরে এসব মানে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন রাতের আঁধারে আমার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুটি ঘটনা একই চক্রের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাকে উচ্ছেদ করে জমি দখল করা। আমার স্বামী কিছু জমি বিশ্ব দরবারের কাছে বিক্রি করেছে। বিচার কে করবে?’

প্রণতি রাণী আরও বলেন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দীনের উদ্যোগে ১৯ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত হলেও অপর পক্ষ উপস্থিত হয়নি।

চোটন কর্মকার জানান, ‘আজকের বৈঠক সম্পর্কে আমি জানি না। সম্পত্তির বিরোধ হচ্ছে সুমনের সঙ্গে প্রণতি রাণী দাশের। সুমনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কারণে সমাধানের জন্য আমি সম্পৃক্ত হয়েছি। এখন আমাকে বিবাদী করে একটি পক্ষ হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

গাজী নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘চোটন কর্মকার ও প্রণতি রাণী দাশের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এ নিয়ে অনেক দেনদরবার হয়েছে, কিন্তু সমাধান হয়নি। আমি দুই পক্ষকে একজন করে প্রতিনিধি দিতে বলেছিলাম। আমার পক্ষ থেকেও একজন প্রতিনিধি থাকবে। তিনজন মিলে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, উভয়পক্ষকে তা মেনে নেওয়ার কথা ছিল। প্রণতি রাণী আজ বৈঠকে এলেও চোটন কর্মকার উপস্থিত হননি।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে প্রণতি রাণীর ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমি তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘরে আগুন দেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। ১৪ সেপ্টেম্বর গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বলতে পারছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি চট্টগ্রামে একটি মিটিংয়ে আছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের পর বিষয়টি জানানো হবে।



আরও পড়ুন: