পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে হট্টগোলের অভিযোগে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের কক্ষের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. রিয়াজ উদ্দিন ও মো. শহীদ বাদশা সবুজ। তারা নিজেদের যথাক্রমে ‘ক্রাইম পেট্রোল’ ও ‘প্রাণের বাংলাদেশ’ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আকিব রায়হান জানান, জেলা প্রশাসকের কক্ষে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে সিসিটিভি ক্যামেরায় দরজার সামনে দুই ব্যক্তিকে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে হট্টগোল করতে দেখা যায়। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে।
পরে মো. রিয়াজ উদ্দিনের বুক পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এনডিসির দাবি, মোবাইল ফোনটিতে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ডিং চালু ছিল। তার অভিযোগ, রিয়াজ উদ্দিন গোপনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভেতরের কার্যক্রম ধারণ করছিলেন।
এনডিসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক দুজন নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে আটক মো. রিয়াজ উদ্দিন ও মো. শহীদ বাদশা সবুজের দাবি, তারা একটি অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার টেবিলে পাঠিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়। পরে অভিযোগটি সরাসরি জেলা প্রশাসককে জানাতে তার কক্ষের সামনে গেলে কার্যালয়ের কর্মীরা তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন।
গোপনে ভিডিও ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে আটক দুজনই বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক দুই ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আরও পড়ুন:







