শনিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ আবেদন; বেশীর ভাগই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী

রেজাউল করিম লিটন,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১১

শেয়ার

চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ সার ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩ আবেদন; বেশীর ভাগই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী
ছবি: বাংলা এডিশন

চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগে চার উপজেলায় মোট ৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩টি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রতি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১৪জন আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বেশীর ভাগই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতা-কর্মী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১টি ডিলারশিপের বিপরীতে ১৭৪টি আবেদন জমা পড়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬টি ডিলারশিপের জন্য আবেদন পড়েছে ১৯৮টি। দামুড়হুদা উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১৬০টি। আর জীবননগর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৯টি ডিলারশিপের জন্য ১১১টি আবেদন জমা পড়েছে।

২০২৬ সালের সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালার আলোকে প্রথমে আবেদনপত্রগুলো জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই শেষে দুই কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনপত্র উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হবে। উপজেলা কমিটি তথ্য যাচাই করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে। এরপর উপজেলা কমিটির প্রস্তাবিত প্রত্যেক প্রার্থীর তথ্য জেলা কমিটি পুনরায় যাচাই করবে। যাচাই শেষে প্রতি ইউনিয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর প্রস্তাব সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি প্রস্তাবিত প্রার্থীদের আবেদনপত্র ও তথ্য পরীক্ষা করে ইউনিয়ন প্রতি একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত ডিলার নিয়োগ অনুমোদন করা হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম কিংবা শুধু কাগুজে যোগ্যতার পরিবর্তে পর্যাপ্ত গুদাম, আর্থিক সক্ষমতা, সারের বাজারজাতকরণে অভিজ্ঞতা, সততা ও কৃষকবান্ধব মনোভাবকে গুরুত্ব দেয়া হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ হলে চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা সঠিক সময়ে নির্ধারিত দামে সার পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা সহজ হবে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরল ইসলাম বলেন, ‘৪৫টি ডিলারশিপের বিপরীতে ৬৪৩টি আবেদন জমা পড়েছে। কোনো বিবেচনায় নয়, ২০২৬ সালের নীতিমালার আলোকে যোগ্য প্রার্থীরাই ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাবেন।’ উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ছিল আবেদনের শেষ দিন।

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আবেদনের বেশীবভাগই ক্ষমতাশীল দল বিএনপির জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা- কর্মী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপ্টন, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফুজ্জামান সিজার, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজাহান, আলমডাঙ্গা উপজেলার নেতা কাউনাইন টিলু করেছেন নিজের মেয়ের নামে, দামুড়হুদা উপজেলা সভাপতি রফিকুল হাসান তনু, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত, সেক্রেটারি৷ আহম্মদ আলীর ছেলে, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন খান , জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, জীবননগর পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দীন ময়েন৷ দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেটসহ পদধারী নেতারা। এছাড়াও জেলা, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি- সেক্রেটারির নামে আবেদন রয়েছে।

জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, আমাদের দলের প্রায় সব নেতায় আবেদন করেছে। আমিও করেছি। তাতে সার ডিলার নিয়ে যে অবস্থা মনে হচ্ছে, দেখি পায় কিনা?

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ- পরিচালক কার্যালয়ের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম জানান, প্রচুর আবেদন জমা হয়েছে। আবদেনগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

সার ডিলারশিপ শুধু ব্যবসায়িক অনুমোদন নয়; এটি কৃষকের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি দায়িত্ব। মরসুমে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি ও অন্যান্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হলে কৃষক সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারেন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে, অতিরিক্ত দামে সার কেনার সুযোগও হ্রাস পায়। ফলে কৃষকের খরচ ও ভোগান্তি দুটিই কমে।

জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক লুৎফন নাহার বলেন,

'সকল নিয়ম, নীতিমালা মেনে সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হবে।'