শুক্রবার

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া রেসিংয়ে প্রবাসী নিহত, ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন

ইস্পাহানী ইমরান, কেরানীগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৮

শেয়ার

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া রেসিংয়ে প্রবাসী নিহত, ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: বাংলা এডিশন

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল রেসিং বন্ধ এবং রেসারের ধাক্কায় প্রবাসী হৃদয় নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

শুক্রবার বিকেল ৫টায় ধলেশ্বরী টোল প্লাজার সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন থেকে সড়কে রেসিং বন্ধসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

মানববন্ধনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন নিহত হৃদয়ের স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় প্রিয়জন হারানোর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রেসার গ্রুপ ‘জিপি গ্রুপ’-এর এক সদস্যের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন প্রবাসী হৃদয়। তাদের দাবি, নম্বরপ্লেটবিহীন ওই মোটরসাইকেলটি ঘণ্টায় প্রায় ১৬১ কিলোমিটার গতিতে রেস করছিল।

এ ঘটনায় সরকার বাদী হয়ে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। একই সঙ্গে ‘জিপি গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। এক্সপ্রেসওয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলেও পুলিশ তা দিতে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।

মানববন্ধনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহত হৃদয়ের মা বলেন, “আমার মতো আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে তাদের যেন শাস্তি হয়। এই রেসাররা যেন আর রাস্তায় না থাকে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে হাসারা হাইওয়ে থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রেস করার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রেসার গ্রুপের সদস্য বাইকারের হাতে একজন নিহত হয়েছেন, যা তিনি নিজেও দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, এখন থেকে যাদের লাইসেন্স নেই, যারা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাবে, অবৈধ হর্ন বা হলার ব্যবহার করবে এবং হেলমেট ব্যবহার করবে না—তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গাড়ি আটক করে ডাম্পিং করা হবে।

মানববন্ধন থেকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ রেসিং প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও পুলিশি নজরদারি জোরদার করা; ঝুঁকিপূর্ণ সময় ও স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া; অতিরিক্ত উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী ও অনুমোদনবহির্ভূত পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহারকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; তরুণদের মধ্যে দায়িত্বশীল মোটরসাইকেল চালনা, অতিরিক্ত গতি ও রেসিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা।

নিহত হৃদয়ের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না, মহাসড়কে বেপরোয়া রেসিং বন্ধে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রশ্ন—আর কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়ার আগেই কি বন্ধ হবে মহাসড়কের এই ঝুঁকিপূর্ণ রেসিং?