শুক্রবার

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

নারীসহ ওসি মাহবুব পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

এস এম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২১

শেয়ার

নারীসহ ওসি মাহবুব পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার
ছবি: বাংলা এডিশন

রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে বের করে থানায় নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে চন্দ্রিমা থানার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটটির দরজার বাইরে এক নারী দীর্ঘ সময় অবস্থান করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। তাঁর দাবি, ভেতরে তাঁর স্বামী রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারীকে বের করে থানায় নেয়া হয়।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।

ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের বাইরে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাঁকে বিয়ে করেন।তবে মাহবুবের দাবি, তিনি আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন। পুলিশকে তালাকের একটি কাগজও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। যদিও আন্নি জানিয়েছেন, তিনি কোনো তালাকের কাগজ হাতে পাননি।

অন্যদিকে ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার পর মাহবুব আলম সানজিদা মৌকে তাঁর স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। সানজিদা মৌ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

আন্নির দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম তাঁর কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেয়া ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন এবং সেখানে সানজিদা মৌও রয়েছেন। এরপর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সেখানে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেয়া হয়। দুপুরে তাদের থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয় এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানান আন্নি আক্তার।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।