ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের মামলায় হাফিজার শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও তিন মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাফিজার শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই হাফিজার শেখ তার পুত্রবধূকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট কৌশলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই ঘটনার কথা প্রকাশ করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়।
ঘটনার বিষয়টি ভুক্তভোগী তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জানান। তবে অভিযোগের পরও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিচার বা কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি হতাশ হয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
পরে আইনি প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:







