বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

উদ্বোধনের এক মাস পরই বন্ধ ১০ কোটি টাকার পানি শোধনাগার; দুর্ভোগে হাজারো পৌরবাসী

শেখ বেলাল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১০

শেয়ার

উদ্বোধনের এক মাস পরই বন্ধ ১০ কোটি টাকার পানি শোধনাগার; দুর্ভোগে হাজারো পৌরবাসী
ছবি: বাংলা এডিশন

উদ্বোধনের মাত্র এক মাস পরই বন্ধ হয়ে গেছে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার ও উচ্চ জলাধার প্রকল্প। টানা ১৩ মাস ধরে প্রকল্পটি অচল থাকায় ধুলা ও মরিচায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি। অন্যদিকে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌর এলাকার হাজারো বাসিন্দাকে।

প্রকল্পটি কেন বন্ধ হয়ে রয়েছে, তা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর একে অপরকে দায়ী করছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ শেষে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরের সুদিয়াখলা এলাকার পুরাতন গরুর বাজার সংলগ্ন স্থানে নির্মিত বিশাল আকৃতির ওভারহেড পানির ট্যাংকটি বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন হলেও ভেতরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ফটক ও পানি শোধনাগারের মূল ভবনে ঝুলছে তালা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের চারপাশে আগাছা জন্মেছে, অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গবাদিপশু। ভবনের ভেতরে পানি শোধনাগারের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি ধুলায় ঢেকে গেছে, কোথাও কোথাও মরিচাও ধরেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুষ্ক মৌসুমে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকায় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপে পানি ওঠে না। ফলে সুপেয় ও গৃহস্থালি ব্যবহারের পানির জন্য এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটতে হয় বাসিন্দাদের। এমন বাস্তবতায় নিরাপদ পানি সরবরাহের আশায় নির্মিত প্রকল্পটি চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পৌরবাসীর মধ্যে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৪০০ কিউবিক মিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড পানির ট্যাংক ও পানি শোধনাগারটি নির্মাণ করে ‘এবিএম ওয়াটার কোম্পানি লিমিটেড’। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৩ মার্চ প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২৮ এপ্রিল প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু চালুর মাত্র এক মাসের মাথায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার কারণ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, পানি শোধনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক (কেমিক্যাল) সরবরাহ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রকল্পটি সচল রাখা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, নির্ধারিত কাজ শেষ করে নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভার।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রকল্পটি পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে পানি সরবরাহ চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প যথাযথ তদারকির অভাবে বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা সরকারি অর্থের অপচয়ের শামিল। তারা দ্রুত নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ ১৩ মাস প্রকল্পটি বন্ধ রেখে মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।