বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সিংগাইরে সরকারি গাছের নিলাম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪০

আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫

শেয়ার

সিংগাইরে সরকারি গাছের নিলাম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা পরিষদ চত্বরের ৫৪টি সরকারি গাছ নিলামে বিক্রি নিয়ে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সচেতন মহলের অভিযোগ, যথাযথ প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করেই নামমাত্র মূল্যে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নিলাম বাতিল ও ঘটনার তদন্তের দাবিও উঠেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের ১ নম্বর নিলাম নোটিশে (স্মারক নং- ৪৬.০২.৫৬৮৩.০০০.১৪.০৬০.২৬/৬৪১, তারিখ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বলা হয়, উপজেলা পরিষদ চত্বরের ৫২টি দাঁড়ানো এবং ঝড়ে পড়ে যাওয়া দুটি গাছসহ মোট ৫৪টি গাছ নিলামে তোলা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

অংশগ্রহণ কম থাকার অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামে প্রত্যাশিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন না এবং পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতাও হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনেকেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তারা।

সাবেক কাউন্সিলর আকরাম হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নিলামে উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কার্যকর দর-কষাকষি হয়নি। একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দিতে নিলাম প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নিলামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে টাঙ্গাইলের মো. মহিউদ্দিন ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা শাহানুর ইসলাম ৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দরদাতা টাঙ্গাইলের রমজান ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দেন বলে জানা গেছে। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম দরদাতারাও প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়ে কৌশলে অন্যদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গাছের বাজারমূল্য নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, নিলামের বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি। তাদের জানানো হলে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে গাছগুলো কিনতেন। তাদের দাবি, গাছগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বন বিভাগের মূল্য অনুযায়ী নিলাম: প্রকৌশলী

নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিলাম কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম সামদানী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় দৈনিক মানিকগঞ্জের খবর পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

নিলামে কমসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে আরও সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ ও অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন ছিল। বন বিভাগের দেওয়া বাজারমূল্যের ওপর নির্ভর করে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিলাম নিয়ে তদন্তের দাবি

সরকারি সম্পদ বিক্রির এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সিংগাইর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম মূল্য হওয়ায় নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এফ এম রিপন আক্তার ফজলু বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি হলে তিনি তাতে অংশ নেওয়ার কথা জানান।

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিলাম প্রক্রিয়ার সভাপতি খায়রুন্নাহার পপি জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য পাওয়া গেছে এবং নিয়ম অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, নিলাম প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিলামের যাবতীয় নথি, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা, দরপত্র ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।